আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম। একই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দুই প্রার্থীরই প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে কেটে যায় বহু সময়। ইসিতে আপিলে সুযোগের সময়ও শেষ হয়। দুই প্রার্থীই নামেন প্রচারণায়।
তবে, বিপত্তি বাধে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে। গত ২ ফেব্রুয়ারি কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন নাহিদ, করেন রিট। অভিযোগ তোলেন দ্বৈত নাগরিকত্বের। তবে, ৩ ফেব্রুয়ারি সেই রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। রিট খারিজের চার দিন পর বিষয়টি নিয়ে ফের আদালতে হাজির হন নাহিদ। রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন এই প্রার্থী।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনও দ্বৈত নাগরিক বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাইয়ুমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি তুলছেন নাহিদ।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ মামলাতে আমরা দুটি কারণ তুলে ধরেছি। প্রথমটি, এম এ কাইয়ুম হলেন দ্বৈত নাগরিক। বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি ভানুয়াতু নামক একটি দেশের নাগরিক। দ্বিতীয়টি, তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য নির্বাচনি হলফনামায় গোপন রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিক হওয়ার ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করেছেন। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা আপিল আবেদনে এই দুটি কারণ উল্লেখ করেছি।”
আইনজীবী মূসা বলেন, “আগামীকাল (রবিবার) আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।”
সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনও ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি (গ) তিনি (প্রার্থী) কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে এরই মধ্যে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তাদের প্রার্থিতা হারিয়েছেন। তাদের দায়েরকৃত লিভ টু আপিলও খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।









