জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন, বদরুদ্দীন উমর বিদ্যমান শোষণ বৈষম্য নির্যাতন লুণ্ঠন দুর্নীতির এই ব্যবস্থা উচ্ছেদের রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিপ্লবী আন্দোলনের বিকাশে ও জোরদার করতে বিপ্লবী তত্ত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করতে তিনি বলেছিলেন। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন মার্কস-এঙ্গেলস-লেনিনের যোগ্য শিষ্য।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় পাবনা প্রেসক্লাবে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বিপ্লবের রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণে তিনি ছিলেন একজন বিশেষজ্ঞ। ২৪’র জুলাইয়ের আন্দোলন যে এ অঞ্চলের সব থেকে ব্যাপক, বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক এক গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে, তা তিনিই সর্বপ্রথম চিহ্নিত করেছিলেন। তার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নব প্রজন্মকে সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’
বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য আমীরুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চলের সংগঠক আমজাদ হোসেন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঈশ্বরদী শাখা সংগঠক মনোয়ার হোসেন।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চল সংগঠক শ্রমিক নেতা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ।
আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আলোচনা সভার সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমরের সমগ্র জীবন তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলন বিকাশে কাজ করে গিয়েছিলেন।’
সজীব রায় বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর সারাজীবন দুই ধরনের কাজ করে গিয়েছিলেন। একদিকে তিনি সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে লেখালেখি করে গেছেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বাস্তবতায় বিপ্লবের তত্ত্ব নির্মাণ করে গেছেন,শ্রমিক কৃষকসহ শোষিত বঞ্চিত মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তার বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইন আমরা আকড়ে ধরে আছি।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একদল বামপন্থি নামে পরিচিত সুবিধাবাদী দল বদরুদ্দীন উমরকে কমিউনিস্ট বিপ্লবী হিসেবে নয় “বুদ্ধিজীবী” হিসেবে দেখে বিচার করে এসেছে। সুবিধাবাদী, বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তিকারী বামপন্থিদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর।’
আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে সংগঠন করতে গিয়ে শ্লোগান তুলেছিলাম, এখনও তুলে যাচ্ছি ‘নির্বাচনে মুক্তি নাই, বিপ্লব ছাড়া উপায় নাই’।’
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর শোষণ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শিক্ষিত করতে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।’
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের প্রশ্নটিকে সর্বপ্রথম সূত্রায়িত করেন ও সামনে নিয়ে আসেন।’