চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও সংশ্লিষ্ট ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি রফতানির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই এনসিটির দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব জনসম্মুখে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এর আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ভিত্তিতে। এখানে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, অপারেটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও মূল্যায়নের মানদণ্ড সরকারকে প্রকাশ করতে হবে। একইসঙ্গে ফি, রাজস্ব ভাগাভাগি, ট্যারিফ, বিনিয়োগ, অপারেটরের মুনাফা এবং রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের সামনে আনতে হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, ব্যয় ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার তুলনামূলক স্বাধীন মূল্যায়নও প্রকাশ করা জরুরি।
গণসংহতি নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে এর জন্য নিজস্ব সক্ষমতা উন্নয়নের বিকল্পগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে বিদেশি অপারেটরের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সমীচীন নয়।
একই সঙ্গে এনসিটির শ্রমিকদের চাকরি, মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কার্গো, জাহাজ, আমদানি রফতানি ও বন্দর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন স্বাধীন অর্থনৈতিক, শ্রমিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রকাশ করে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সামগ্রিক নীতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এনসিটির কনসেশন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।