ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান দেশের প্রধান নির্বাহী ও প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের আঁতাতের যে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন— তা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানান ইসলামী অন্দোলনের মহাসচিব।
বিবৃতিতে তিনি জানান, জনসভায় হাজারো মানুষের সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই, পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। মিথ্যা কথা বলে এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। রাষ্ট্রের কাছে এই ধরনের তথ্য থাকার পর শুধু জনসভায় বক্তব্য ও বা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহবান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হয়। কারণ, জাতি আর কোনোভাবেই পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন দেখতে চায় না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা জানতে চাই যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
ইসলামী আন্দোলন মহাসচিব বলেন, পতিত স্বৈরাচার দেশে ফিরতে চাইবে, এটা অনুমান করা যায়। তাদের প্রত্যাবর্তন প্রতিরোধ করতে দুইটা কাজ জরুরি ছিল। স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রাতিষ্ঠাতিক ও সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। কিন্তু এই সরকার তার কোনোটাই করেনি। বরং স্বৈরাচারের সঙ্গে আঁতাত করে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সংবাদেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটা জাতিকে উদ্বিগ্ন করে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের থেকেও কোনও প্রতিবাদ আসেনি। এটাও প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের উচিত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা।