ব্র্যাক ব্যাংক যেভাবে শক্তিশালী করে চলেছে রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২২, ১৭:৫০আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ১৮:০১

কিশোরগঞ্জের শামসুল আরেফিন মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে একটি নির্মাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। বোনের বিয়ে উপলক্ষে তিনি দেশে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার পরিবারের হাতে টাকাটা পৌঁছায় বিয়ে শেষ হওয়ার পরে। শামসুলের মতোই এমন হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক, যাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধা বলা হয়, দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।

লাখ লাখ বাংলাদেশি যুবক বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তারা কষ্টার্জিত অর্থ পরিবারের কাছে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠান এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন। অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা রেমিট্যান্সযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উপকারী হতে থাকবে। যেহেতু এক দেশ থেকে আরেক দেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া যথেষ্ট জটিল, এতে একাধিক অর্থপ্রদান সেবা প্রদানকারী যেমন: এক্সচেঞ্জ হাউজ, ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট ইত্যাদি জড়িত; তাই প্রক্রিয়াটিকে ব্যক্তিগত স্তরে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যেহেতু প্রতিটি দেশের নিজস্ব অর্থপ্রদান অবকাঠামো, নীতিমালা ও নির্দেশিকা রয়েছে, তাই কখনও কখনও টাকা পাঠানোর সময় অনেকগুলো মধ্যবর্তী পদক্ষেপ পার হয়ে টাকা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।

বিগত এক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এশিয়া-প্যাসিফিক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ এবং আফ্রিকা থেকে যে সব প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের এবং তাদের পরিবারের জীবন সহজ করার জন্য বিশ্বব্যাপী ৬৫টিরও বেশি পার্টনার নিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে ব্র্যাক ব্যাংক। বর্তমানে বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে থাকা প্রতিটি বাংলাদেশি সহজেই ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন। ব্যাংকের অংশীদাররা আন্তরিকভাবে সাহায্য করছে। পেমেন্ট অপারেটর যেমন: ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, রিয়া, ওয়ার্ল্ড রেমিটসহ আরও অনেক রেমিট্যান্স পার্টনার ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করে চলেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি চাইলেই শুধু এই অপারেটরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন না। তার জন্য এই পেমেন্ট অপারেটরের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ব্যাংককে সংযুক্ত থাকতে হবে।

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় এন অ্যান্ড পি জাপান কোম্পানি লিমিটেড। তবে দেশে তাদের কোনও অংশীদার ব্যাংক না থাকায় অভিবাসীরা আগে তাদের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেননি। ব্র্যাক ব্যাংক এখন যৌথভাবে এন অ্যান্ড পি জাপান কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে। ফলে জাপানে বসবাসকারী প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি এখন তাদের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা সমাধানে শুধু পার্টনারশিপ যথেষ্ট না-ও হতে পারে। অভিবাসীদের দ্রুত টাকা পাঠানোর প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিটি পেমেন্ট পার্টনারের সঙ্গে একটি ‘এপিআই কানেক্টিভিটি’ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই টাকা স্থানান্তর করা যায়।

দুবাই থেকে আবু নাসের বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্র্যাক ব্যাংকে আমার ভাইয়ের একটি অ্যাকাউন্ট আছে। স্থানীয়ভাবে যখনই টাকা স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়, তখনই আমি দুবাই থেকে তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাই। সহজ এই প্রক্রিয়াটি এতদিন ছিল স্বপ্নের মতো। ব্যাক ব্যাংক সেটিকে বাস্তবায়িত করছে।’

 

 

/আরকে/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম