দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ সফলভাবে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত সেল ১১ দশমিক ১১ শেষ করেছে। বছরের সবচেয়ে বড় এই সেলের মাধ্যমে দারাজ এবার দুই কোটির বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে পেরেছে।
রবিবার (২৬ নভেম্বর) দারাজের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ বছর দারাজের লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে বড় সেল উৎসবের মাধ্যমে সবার কাছে ই-কমার্সের সুযোগ-সুবিধাগুলো পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্দেশ্য সাধনে তারা ১১ দশমিক ১১-তে অফার করেছে সেরা দাম এবং বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রী। সবচেয়ে বেশি বিক্রীত পণ্যের মধ্যে লবণ ও গুঁড়া দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছিল অন্যতম। এর মাধ্যমে ক্রেতারা অনেক সঞ্চয় করতে পেরেছেন, যা লোকাল কমিউনিটির জীবনমান উন্নত করার যে প্রতিশ্রুতি দারাজ নিয়েছিল, তা নিশ্চিত করে।
দারাজ বিক্রেতাদের অনলাইন ব্যবসা প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ৩০ হাজারের বেশি ব্র্যান্ড এবং বিক্রেতাদের ১১ দশমিক ১১ সেলে বিক্রির সুবিধা করে দিয়েছে। এ জন্য অনবোর্ডিং ওয়ার্কশপ অফার করা থেকে শুরু করে বিক্রেতাদের ব্যবসার খরচ কমানোর লক্ষ্যে নতুন কো-ফান্ডেড প্রোগ্রাম চালু করা পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় দারাজ। ফলে এবার দারাজে নন-ক্যাম্পেইন দিনের তুলনায় ১০০ শতাংশের অধিক বিক্রেতা ১১ দশমিক ১১-এর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ ছাড়া দারাজ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি আয় করার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বছরের ১১ দশমিক ১১-তে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা বিগত বছরের তুলনায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত তাদের আয় বাড়াতে পেরেছেন।
দারাজের উদ্দেশ্য ছিল সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলগুলোতে ই-কমার্সের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। দেশব্যাপী বছরের সবচেয়ে বড় সেলের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে দারাজ তাদের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক আরও প্রসারিত করে। ফলে এ বছর ঢাকার বাইরের বিক্রেতাদের মাঝে ৬০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। লজিস্টিক পার্টনারদের সহায়তায় দারাজ ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি রাইডার নিয়োগ করেছে, যারা আরও বেশি ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সংযোগ স্থাপন করছে। এবারের সবচেয়ে দূরের প্যাকেজটি চট্টগ্রাম থেকে তেঁতুলিয়া ডেলিভারির জন্য তারা ৫৭৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।
দারাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ারকে মিকেলসেন বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির এ সময়ে ব্যবসার প্রভাবের মাধ্যমে সমাজকে উন্নত করার আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, তা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এ বছর আমরা ক্রেতাদের জন্য অনলাইন কেনাকাটা আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার পাশাপাশি বিক্রেতাদের বিক্রয় সর্বাধিক করার লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করেছি। আমরা আমাদের ক্রেতা, বিক্রেতা, ব্র্যান্ড, ক্রিয়েটর, পার্টনার এবং দারাজের অসাধারণ টিমের প্রতি কৃতজ্ঞ যাদের সহায়তা ছাড়া দারাজ ১১.১১-এর বিপুল সফলতা সম্ভব হত না।
সতর্কতা
দারাজের নামে দাবি করা ফেইক সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং ওয়েবসাইট থেকে সতর্ক থাকুন। শুধু দারাজের নীল টিক চিহ্নযুক্ত ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে ভিজিটের মাধ্যমে দারাজের সব ছাড় ও সেরা অফার সম্পর্কে আপডেটেড থাকুন এবং সুরক্ষিতভাবে লেনদেন করতে শুধু দারাজ ওয়েবসাইট (www.daraz.com.bd) এবং দারাজ অ্যাপের মাধ্যমে কেনাকাটা করুন। আসছে দারাজের গ্র্যান্ড ইয়ার-এন্ড ক্যাম্পেইন ১২.১২, যেখানে থাকবে আকর্ষণীয় সব ডিলস। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া না করতে স্মার্ট ও সুরক্ষিত উপায়ে সবই কিনুন দারাজে। যেকোনও তথ্যের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন দারাজের লাইভ চ্যাট অপশন অথবা কল করুন ১৬৪৯২ নম্বরে।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত দারাজ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মায়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। দারাজ বিশ্ব মানসম্পন্ন মার্কেটপ্লেস প্রযুক্তির মাধ্যমে ছয় লাখের বেশি সেলারের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি সেলারদের এ অঞ্চলের দ্রুতবর্ধনশীল ৫০ কোটি গ্রাহকের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে দারাজ। দারাজ এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি বাজারের সবচেয়ে কার্যকরী ও ডিজিটালাইজড লজিকটিকস অবকাঠামো পরিচালনা করছে। দারাজের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ কোটি ক্রেতা ও ব্যবসাকে সেবা প্রদান করা।
এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন আহাদুজ্জামান চৌধুরী (ইমেইল: [email protected], ফোন: +880-1894-928740) এবং সিনিয়র ম্যানেজার রাইসুল ইসলাম বাপ্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। (ইমেইল: [email protected], ফোন: +880-1894-928653)।









