মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করেছিলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সুপারশপগুলোর ক্ষেত্রেও এই হার প্রযোজ্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাট আর ক্রেতাদের দিতে হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপারশপ স্বপ্ন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরে সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপারমার্কেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ভ্যাটের হার কমানোর জন্য অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে সুপারশপের প্রতিনিধিরা তিনটি সুনির্দিষ্ট ক্রেতাবান্ধব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেন এবং তারা ভ্যাটের যে আদর্শ পদ্ধতি রয়েছে— তা অনুসরণের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, ভ্যাটের স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে ১৫ শতাংশ মূসক পরিশোধ করে কেনার ওপর রেয়াত গ্রহণ করা। সেই নীতি অনুসারে সুপারশপগুলো যদি ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করে, তাহলে তারা অন্যান্য নিয়ম মেনে সহজেই ভ্যাট রেয়াত নিতে পারবে। এই পদ্ধতিতে ক্রেতাদের বাজার করার পর সেই অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা বর্তমানে কার্যকর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আর দিতে হবে না। পণ্য মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দুপক্ষ আলোচনা করে নিরসনের জন্য সম্মত হন।
এ প্রসঙ্গে স্বপ্ন'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বিশাল চাপের মধ্যে আছে। আমি মনে করি, ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ, পুষ্টিমানসম্মত খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপণ্য কেনার অধিকার আপামর জনগণ সবার। আগে ৫ শতাংশ যে ভ্যাট ছিল সুপারশপে, সেটা সবার জন্য বাড়তি একটা খরচ ছিল। এখন সেই অতিরিক্ত খরচ আর থাকবে না। আশা করছি, এতে করে বাজার ব্যবস্থায় একটা সমতা আসবে।
তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত— এনবিআর এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভ্যাট বৈষম্যের বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। স্বপ্নে এখন থেকে ক্রেতাদের সেই ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। এ সাফল্য আপনার, আমার, আমাদের সবার, সারা দেশের । কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ঠ বাজার— এই স্লোগান এখন যথার্থভাবে বাস্তবায়ন হতে চলেছে।









