অনেকদিন পর সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম। কারণ বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের মিডিয়া ব্রিফিং সামলান এই দুই ফরম্যাটের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলের টেস্ট খেলা কম হয় বলে মুশফিকেরও মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আসা হয় কম। টাইগারদের নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রাইস্টচার্চের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে চোটে আক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক। তাকে ছাড়াই নেলসনের দুটি ওয়ানডে, নেপিয়ার-মাউন্ট মাঙ্গানুইর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ ফিরে যায় হারের বৃত্তে। পরপর ছ’টি ম্যাচে হেরে ধবল ধোলাইর শিকার বিধ্বস্ত টিম টাইগার্সদের দেখে সবাই অনুভব করেছেন মুশফিকের অভাব। সেই মুশফিক ফিরে এলেন মাঠে এবং মিডিয়ার সামনে। আশাবাদ জানালেন, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আশানুরূপ ফল না এলেও টেস্টে ভালো কিছুই হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ওয়েলিংটনের মিডিয়া ব্রিফিং রুমে পৌঁছে সবাইকে সালাম দিয়ে ডায়াসে বসেন মুশফিকুর রহিম। এ সময় বেশ হাসিখুশি ছিলেন তিনি। বললেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমি এখন শারীরিকভাবে ভালো আছি। রিকভারি খুব ভালো হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে শতভাগ রিকভারির কথা বলা কঠিন। কারণ এমন পরিস্থিতিতে কারেন্ট ইনজুরি আসারও সুযোগ থাকে। তবে আমি এখন অনেক ভালো অনুভব করছি। সেভাবেই দলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
মুশফিককে প্রশ্ন করা হয়, দেশে ইংল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে যে সাফল্য পেয়েছেন, এই বিদেশ সফরে তার স্মৃতি কি কোনও প্রভাব ফেলবে? জবাবে মুশফিক বলেন, ‘ইংল্যান্ডের মতো দলকে টেস্টে হারানো অবশ্যই যেকোনও দলের জন্যে একটি বড় অনুপ্রেরণা। কোনও একটি দল যখন ২০ উইকেট নিতে পারে, তখন দলটির মধ্যে সন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তবে নিউজিল্যান্ডে আমাদের সফরটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, আমরা অনেকদিন পর বিদেশে খেলতে এসেছি। এখানকার কন্ডিশন, উইকেট— দু’টোই আমাদের জন্যে ভিন্ন। এখানে এরা সিমিং উইকেট বানায়, আমাদের দেশে যেমন আমরা বানাই স্পিনিং উইকেট। আমাদের স্কোয়াডে চারজন পেস বোলার আছেন, সৌম্যকে নিয়ে পাঁচ জন। তাদেরকে অবশ্যই এখানে আক্রমণাত্মক খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমাদের স্কোয়াডে যে সিম বোলাররা আছেন তাদের ২০ উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা আছে। এবং সেটা শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, বিশ্বমানের যেকোনও ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধেই। তারা যদি তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে আমাদেরও এখানে অনেক সুযোগ আছে।’
বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক বেশকিছু ম্যাচে অভিষিক্ত খেলোয়াড়দের অসাধারণ পারফর্যার ন্সের ঘটনা দেখা গেছে। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট সিরিজেও এমন কিছু ঘটবে কিনা জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘এমন কারও কারও ক্ষেত্রে হয়। মিরাজ যেমন সফল হয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সবার ক্ষেত্রে এমন না-ও হতে পারে। আবার অনেকের সাধারণ পারফর্যারুন্সও ম্যাচের মেজাজ বুঝে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পেস বোলারদের ক্ষেত্রে আমাদের মেসেজ একটাই— লাইন-লেন্থ বজায় রেখে ভালো জায়গায় বল করতে হবে। অনেকেই মনে করে এখানকার উইকেটে বাউন্স আছে। এসব উইকেটে পেসারদের অনেক কিছু করার সুযোগও থাকে। কিন্তু আমাদের অনুকরণীয় হবে বোলিংয়ের মৌলিক নিয়মটাই মেনে চলা।’
এই বার্তাই দলের পেসারদের দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুশফিক। তিনি বলেন, ‘দলের পেসাররা যদি সব সময় লাইন-লেন্থ বজায় রেখে একটা জায়গায় বল করতে থাকে তা যেকোনও বিশ্বখ্যাত ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংকেও কঠিন করে তুলবে। আর যেকোনও ব্যাটসম্যানে আউট করতে একটা বলই যথেষ্ট। আবার বল করলেই উইকেট পড়ে যাবে এমন ভাবলে হবে না। উইকেট নিতে তাদের পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানদেরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। আমরা পাঁচ দিন ধরে যথাসাধ্য চেষ্টা করব নিজেদের অনুকূলে ফলাফল নিয়ে আসতে। একটি ভালো ফলাফল নিজেদের জন্য নিয়ে আসব, ইনশাল্লাহ।’
/টিআর/








