যদিও আমি খেলার জগতের মানুষ, কিন্তু যেদিন রাসেল ভাই ডেকে বললেন, ‘আপনাকে সেন্ট্রাল ডেস্কে কাজ করতে হবে’, সেদিন কিছুটা দমে গিয়েছিলাম। সাংবাদিকতা-জীবনের শুরু থেকে খেলার সঙ্গে জড়িয়ে, ছোটবেলা থেকে ফুটবল-ক্রিকেট আমার ‘প্রাণ’। অথচ বাংলা ট্রিবিউনে কিনা কাজ করতে হবে ‘ডেস্কে’! হতাশা থাকলেও মনের মধ্যে কিছুটা রোমাঞ্চ যে জাগেনি, অস্বীকার করতে পারছি না।
নতুন অফিসে, নতুন সহকর্মীদের সান্নিধ্যে কাজ শুরু করলাম। সবার সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সেন্ট্রাল ডেস্কের নিউজে অভ্যস্ত হয়ে উঠি। আগেই শুনেছিলাম, বাংলা ট্রিবিউনের পরিবেশ খুব আন্তরিক। সবাই এখানে এক পরিবারের সদস্যের মতো। এখানে এসে বুঝলাম, যা শুনেছি তা শতভাগ ঠিক।
সবার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠতে সময় লাগেনি। কাজের চাপ তো আছেই, কিন্তু কাজের ফাঁকে কথাবার্তা খুব উপভোগ করি। প্রাণচঞ্চল, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার মজাই আলাদা।
গত পহেলা এপ্রিল (এপ্রিল ফুল হইনি অবশ্য!) সেন্ট্রাল ডেস্ক থেকে যোগ দিলাম স্পোর্টস সেকশনে। নিজের জায়গায় ফেরার অনুভূতির কোনও তুলনাই হয় না! এখানে এসে পেয়েছি চার সহকর্মীকে, যারা আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট। তবে ওদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে অল্প সময়ে।
ক্রীড়া সাংবাদিকতা মানেই সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ। ম্যাচ রিপোর্ট বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ নিউজ দ্রুত দিতে না পারলেই সর্বনাশ! আমার চার তরুণ সহকর্মী এ ব্যাপারে দারুণ তৎপর। দ্রুত নিউজ লিখতে ওদের জুড়ি মেলা ভার।
সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। আচমকা চলে গেলেন শ্রদ্ধেয় ফারুক ভাই। সদা হাস্যোজ্জ্বল, মিতভাষী মানুষটি যে আর নেই, বিশ্বাস করাই শক্ত। এত বড় ধাক্কা সামলে ওঠা সত্যি কঠিন।
দেখতে দেখতে প্রায় ছয় মাস কেটে গেলো বাংলা ট্রিবিউনে। এই স্বল্প সময়েই অনেক ভালোবাসা পেয়েছি সহকর্মীদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই অন্য ধরনের।
শুভ জন্মদিন বাংলা ট্রিবিউন।
লেখক: স্পোর্টস ইনচার্জ
/এফএইচএম/








