বাংলাদেশের দশম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অভিষেক হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। অভিষেক ম্যাচে টস করতে নেমেই তাতে জয়ী হয়েছেন পর্দার আড়ালের এই নায়ক।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে মুশফিককে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলে সাকিব আল হাসানকে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ভাগ্যদেবী হয়তো সব কিছু ভিন্নভাবেই লিখে রেখেছিলেন! সাকিব ইনজুরিতে পড়ায় বাংলাদেশের দশম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।
মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দশজন অধিনায়ক। এর মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৩৪টি ম্যাচ খেলে ৭ জয়ের পাশাপাশি ১৮টি ম্যাচ ড্র হয়েছে মুশফিকের নেতৃত্বে।
বাংলাদেশের টেস্ট যুগের সূচনাটা হয়েছিল নাঈমুর রহমান দূর্জয়ের হাত ধরে। এর ধারাবাহিকতায় খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমনরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তালিকাতে আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিকের ইনজুরিতে তামিম গত নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এত অধিনায়কের মাঝে সাফল্যের বিচারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন হাবিবুল বাশার সুমন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের বর্তমান নির্বাচক। ১৮টি ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে একটি জয়ের পাশাপাশি চারটি ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ হয়েছেন হাবিবুল বাশার। সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও একটি করে টেস্ট জয় পেয়েছে। বাকি পাঁচ অধিনায়কের কেউই জয় তুলে আনতে পারেননি। সাকিবের বদলে দায়িত্ব পাওয়া মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিততে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই ‘আনসাং হিরো’। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গত দুই আসরে খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন। ব্যাটিং-বোলিং-অধিনায়কত্ব এই তিন বিভাগেই ছিল দারুণ নৈপুণ্য। শেষ দুটি আসরে তার নেতৃত্বেই খুলনা টাইটানস সেরা চারে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।
মাহমুদউল্লাহর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৭ সালে। তার দুই বছর পর সাদা পোশাকে খেলা শুরু করেন। প্রায় ৯ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৩৫ টেস্ট খেলেছেন। ৬৬ ইনিংসে ব্যাট করে সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার ৯৩১ রান, গড় ৩০.১৭। ১৪ হাফসেঞ্চুরির বিপরীতে টেস্টে তার সেঞ্চুরি একটি। বল হাতে অফস্পিনে ৫১ ইনিংসে বল করে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেটও আছে একবার।







