গত কয়েক বছরে আবাহনীর আটজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। তাদের স্মরণে শুক্রবার বিকালে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজন করেছিল স্মরণ সভা। ক্লাব প্রাঙ্গনে আয়োজিত সভায় অতিথিদের সবাই প্রয়াত একে এম মুহিত উদ্দিন, ফজলে এলাহী বাদল, অমলেশ সেন, শামসুল ইসলাম মোল্লা, আব্দুল মোতালেব, জুম্মান লুসাই, খাজা রহমতউল্লাহ ও খন্দকার রফিকুর রহমানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আবাহনীর জন্য তারা ছিলেন নিবেদিত প্রাণ- সেই কথাই ফুটে উঠে তাদের বক্তব্যে।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছেন,‘প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আবাহনী অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। আমিও যখন আসি তখনো ভালো সময় ছিল না। আমাকে অনেকটা জোর করে খাজা রহমতউল্লাহ নিয়ে এসেছেন ক্লাবে। এর মধ্যে জুম্মন লুসাইয়ের মৃত্যু হল। তার জন্য কিছু করতে করতে রহমতউল্লাহও চলে গেল। শামসু ভাই সবার সঙ্গে মিশতেন। সেই মানুষটি চলে গেলেন অদ্ভুত ভাবে। ছেলে পাইলট শহরে বাড়ি করেছেন। সব সুবিধা আছে। আসলে তিনি পুকুরে গোসল করতে ভালোবাসতেন। সেই পুকুরেই মৃত্যুবরণ করেছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘জীবদ্দশায় আমরা এই মানুষগুলোর পিছনে অনেক সময় দাঁড়াতে পারি না। যথাযথ সম্মান করতে পারি না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সঙ্গে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এরকম কিছু মানুষের খপ্পরে ক্রীড়াঙ্গনও পড়েছে। ’
আবাহনীতে প্রয়াত সেই আটজনের ভূমিকা প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও এখানে যেই আটজন হাজারো লোককে মাঠে নিয়ে গেছেন। তাদের সকলের মিল আছে। আবাহনীর চত্ত্বরকে প্রাণের টুকরো মনে করতেন। পকেটে পাঁচ টাকা থাকুক আর পাঁচকোটি। অনেক সময় পাঁচকোটি টাকার মালিকের চেয়ে পাঁচ টাকার মানুষের হৃদয়ে আবাহনীর স্থানটাও অনেক বড়।’
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন প্রধান অতিথি পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘সমর্থক গোষ্ঠী অনন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। মরণোত্তরদের স্মরণে কোন সংগঠন কখনো এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বলে জানা নেই। আবাহনীর কথা ভাবলে স্মৃতিতে ভেসে যার চিত্র ফুটে উঠে সে হলো শেখ কামাল। যদি শেখ কামাল এই আবাহনী, এই মাঠ না করতেন। তাহলে এখানে বেশ কয়েকটি প্লট হয়ে যেতো। আমরা যারা ধানমন্ডিতে প্রথম থেকে আছি তারা শেখ কামালের কাছে কৃতজ্ঞ।’
শেখ কামালের প্রশংসা করে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আরো বলেন, ‘শেখ কামাল প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতো। আমাদের চেয়ে ছোট ছিল। তবে সকলের সঙ্গে মেলা মেশা করতে পারতো। জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে খেলাধুলা করে। সেতার বাজায়, নাটক করে। এটা সত্যি সত্যি বিরল ঘটনা। এই জাতির, এই দেশের প্রতিষ্ঠাতার সন্তান বড় বড় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকবে। বাংলাদেশের কোন ব্যবসা তাকে ছাড়া হবে না-এটাই ছিল স্বাভাবিক। সেদিক থেকে শেখ কামালের চরিত্র যারা দেখেছেন যারা, তারা বুঝেছেন তারা সব সময় স্মরণ করবেন।’
স্মরণ সভাতে আবাহনীর সমর্থক গোষ্ঠীর কর্মকর্তাসহ প্রয়াত সংগঠকদের আত্মীয়স্বজনসহ অন্যরাও বক্তব্য রেখেছেন।








