দরজায় কড়া নারছে বিশ্বকাপ। ১২ জুন ব্রাজিলে বসতে যাচ্ছে বিশতম ফিফা বিশ্বকাপের অাসর। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে দলগুলো। অার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে হবে ২ জুনের মধ্যে। এছাড়া কয়েকটি দল তাদের চূড়ান্ত দল ঘোষণাও করে ফেলেছে। তবে এবারের বিশ্বকাপেই বাদ পড়েছেন ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন ইউরোপীয় লিগগুলোতে অালো ছড়ানো কিছু ফুটবলার। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাত্য হয়ে পড়া শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের তালিকা তুলে ধরা হলো- ১. ল্যান্ডন ডনোভান (যুক্তরাষ্ট্র): যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ২৩ সদস্যের দলে না রেখে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছেন দলটির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান। সুনাম নয়, পারফর্মেন্সের ভিত্তিতেই দল ঘোষণা করা হবে বলে আভাস দিয়েছিলেন জার্মানির এ কোচ। অার তা করতে গিয়েই ব্রাজিল বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা এই ফুটবলার। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন ডনোভান। ক্লাব ফুটবলে অারও মনোযোগী হতে গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এক বছরের জন্য দূরে সরে গিয়েছিলেন মার্কিন এই তারকা। অার এটাই কাল হয়েছে ডনোভানের জন্যে। ২. মারিও গোমেজ (জার্মানি): গত বছর সিরি 'অা'তে ফিওরেন্তিনায় অভিষেক হওয়ার পর মওসুমটা তার ক্যারিয়ারের সব চেয়ে খারাপ কেটেছে বলে নিজেই স্বীকার করেছেন মারিও গোমেজ। ফিওরেন্তিনার হয়ে ১৫ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল করে বাজে মওসুম কাটানোর পরও ইউরো ২০১২ চ্যাম্পিয়নশীপে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন তিনি। এমনকি দেশের হয়ে ৫৯ ম্যাচে ২৫ গোল করা ২৮ বছর বয়সী এ তারকা খেলোয়াড় কোচ জোয়াকিম লোর পরিকল্পনায় থাকবেন বলেও সকলে আশা করেছিলেন। তবে হাঁটুর চোট ও ফিটনেসে ঘাটতি থাকায় ব্রাজিলগামী দলে তাকে রাখেননি কোচ জোয়াকিম লো। ৩. সামির নাসরি (ফ্রান্স): দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স দল ঘোষণা করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ইংলিশ লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইংলিশ শিরোপা জয় করে মাঠ মাতিয়েছিলেন সামির নাসরি। কিন্তু তাতেও মন ভরেনি দেশমের। হয়তো ভিন্ন কিছুর খোঁজেই ছিলেন দেশম। কারণ ২০০৮ ইউরোতে উইলিয়াম গালাসের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন নাসরি। দুই বছর আগে পোল্যাান্ড-ইউক্রেনে হাতেম বিন আরফার সঙ্গে বিবাদেরও খলনায়ক ছিলেন ম্যানসিটির ওই তারকা। এরপর স্পেনের কাছে ২-০ ম্যাচে পরাজয়ের পর কটূ মন্তব্যের কারণে সাময়িক বরখাস্তও হয়েছিলেন তিনি। তাই সবদিক বিবেচনা করে নাসরিকে দলে রাখেননি দেশম। ৪. গায়েল ক্লিচি (ফ্রান্স): নাসরির বাদ পড়াটা প্রত্যাশিত হলেও দল থেকে ক্লিচির বাদ পড়াটা ছিল রীতিমত বিস্ময়কর। অনেকের ধারণা ম্যানচেস্টার সিটিতে দুই খেলোয়াড়ের গলায় গলায় ভাবেরে কারণেই ব্রাজিলগামী দলে জায়গা পাননি ক্লিচি। কারণটা অবশ্য ক্লিচি সতীর্থ খেলোয়াড়দের কাছে এনিয়ে অালোচনা করুক তা চাননি কোচ দেশম। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অাশঙ্কায় ক্লিচি তাই দলে রাখেননি তিনি। ৫. অ্যাশলি কোল (ইংল্যান্ড): ইংলিশদের দল থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক অ্যাশলি কোল। মূলত ভবিষ্যত খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোচ রয় হজসন। অার এতেই ক্ষোভ অার অভিমানে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ফেলেন কোল। ৬. মাইকেল ক্যারিক (ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ড দলের আরেক ধারাবাহিক খেলোয়াড় মাইকেল ক্যারিক। ময়েস কোচ থাকাকালীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বাজে একটা মওসুম কাটিয়েছেন ক্যারিক। এভারটনের সাবেক এ কোচের কৌশল ছিল ক্লাব খেলোয়াড়দেরকে দ্বিতীয় সারির হিসেবে গণ্য করা এবং তাদের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা। অার এই মানসিক যন্ত্রণাই হয়তো তার খেলুড়ে সক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। যে কারণে ব্রাজিলগামী দলে সুযোগ পাননি ক্যারিক। ৭. কার্লোস তেভেজ (আর্জেন্টিনা): ব্রাজিল বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি কার্লোস তেভেজ। যেটা ছিল রীতিমত বিস্ময়কর। মূলত কোচের সঙ্গে পুরনো বিবাদের কারণেই তাকে জাতীয় দলে রাখেননি কোচ অালেসান্দ্রো সাবেলা। ৮. ফিলিপ কুটিনহো (ব্রাজিল): শারীরিক ফিটনেসের কারণে এবার ব্রাজিল দল থেকে বাদ পড়েছেন ফিলিপ কুটিনহো। মূলত ফিটনেসের কারণে প্রথম একাদশে চেলসি মিডফিল্ডার উইলিয়ান কুটিনহো থেকে এগিয়ে থাকার সুবাদে তাকে দলে রাখেননি স্কলারি। ৯. লুকাস নেইল (অস্ট্রেলিয়া): গত দুই বিশ্ব কাপে সকারুদের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ ছিলেন নেইল। অার ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালিফাই করার মূল খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। তবে নিজ ক্লাবে সাম্প্রতিক ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন নেইল। ১০. আলি করিমি (ইরান): ব্রাজিল বিশ্বকাপে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল অভিজ্ঞ করিমির। কোচ কার্লোস কুইরোজও বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ করা ফুটবলাদের মধ্যে সেরাদের তালিকায় রেখেছিলেন ৩৫ বছর বয়সী করিমিকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ইরানের হয়ে সব চেয়ে বেশী অবদান রেখেছেন করিমি। ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক দেশটির মধ্যে সবচেয়ে তারকা ফুটবলারও তিনি। তবে বিতর্কের জন্যেও সমানভাবে পরিচিত তিনি। ২০০৮ সালে করিমি প্রকাশ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সমালোচনা করেছিলেন। মূলত ইরানের রক্ষণাত্মক সংস্কৃতি বিবেচনায় রেখেই করিমিকে দল থেকে বাইরে রেখেছেন কোচ কুইরোজ।








