বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। সাও পাওলোর অ্যারেনা করিন্থিয়ান্সে উপস্থিত ৬১ হাজার দর্শকের প্রত্যাশা মিটিয়েছেন স্কলারির শিষ্যরা। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই জোড়া গোল করেছেন 'নতুন পেলে' নেইমার; আর তাতেই ব্রাজিলও জিতেছে ব্রাজিলের মতোই। ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে সাম্বা কিংসরা। আর এই আনন্দে একইসঙ্গে ভেসেছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের কোটি কোটি ব্রাজিলপ্রেমী। তবে খেলার শুরুর গল্পটা কিন্তু ছিল অন্যরকম। আগেই হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন ক্রোয়েট কোচ নিকো কবাচ। ব্রাজিলকে আক্রমণের পর আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত রাখার সেই ঘোষণা মাঠে অনুবাদ করা শুরুও করেছিল তার শিষ্যরা। ফলে প্রথম ১০ মিনিটের খেলায় ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ছিল সমানে সমান। ব্রাজিলের তেড়ে ফুঁড়ে করা আক্রমণ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণ করে ব্রাজিল শিবিরকে চমকে দিচ্ছিলেন লুকা মডরিচ-অলিচরা। এমনই একটা আক্রমণ সামলাতে গিয়ে একেবারেই হকচকিয়ে যান ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার। তিনি বলের লাইনে না থাকায় ডিফেন্সে নেমে এসে বল ক্লিয়ার করতে যান মার্সেলো। কিন্তু, ছোট ডি-এর ভেতর থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় করিন্থিয়ান্স অ্যারেনা স্টেডিয়ামের ৬১ হাজার দর্শকের হৃৎস্পন্দন। খেলার বয়স তখন মাত্র ১১ মিনিট। প্রথম ম্যাচেই অঘটনের চোখরাঙানি! স্কলারির শিষ্যরা তা মানেন কি করে? এরপরেই শুরু হয় ব্রাজিলিয়ানদের একের পর এক আক্রমণ। খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। এর নেতৃত্বে ছিলেন যথারীতি ব্রাজিলিয়ানদের স্বপ্নের সারথি নেইমার। শুরু থেকেই তার পারফরম্যান্সের আশায় বুঁদ হয়ে ছিল ফুটবলপ্রেমীরা, মাঠে তার স্বাক্ষরও রাখা শুরু করেন ২২ বছরের এই তরুণ। কিন্তু এরমধ্যেই তিনি হয়ে যান এই বিশ্বকাপে অযাচিত এক 'প্রথম'-এর শিকার। ২৭ মিনিটে হলুদ লুকা মরডিচকে ফাউল করে এই বিশ্বকাপের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। এর ঠিক দুই মিনিট পরেই নেইমারের মাপা শট গোল বারে লেগে জালে জড়ালে প্রাণ ফিরে পায় সেলেসাওরা। দৃষ্টিনন্দন গোলটি রেফারির দেওয়া হলুদ কার্ডের জবাব কিনা তা নেইমারই জানেন। সমতায় ফেরার পরই ক্রোয়েটদের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালান নেইমার, অস্কার, হাল্ক ও লুইজরা। তবে প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি কোন দলই। ১-১ গোলে সমতায় বিরতিতে যায় উভয় দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সেলেসাওরা। খেলার ৭১ মিনিটে জাপানি রেফারির দেওয়া বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে করা গোলে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন নেইমার। এ নিয়ে ব্রাজিলের সর্বশেষ ছয় ম্যাচে ছয়টি গোল করলেন নেইমার। খেলার যোগ হওয়া সময়ে (৯১ মিনিট) ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন অস্কার। প্রতি আক্রমণ থেকে চমৎকার প্লেসিং শটে ক্রোয়েট গোলরক্ষক প্লেতিকোসাকে বোকা বানিয়ে স্কোর লাইন ৩-১ বানিয়ে দেন তিনি। নিশ্চিন্ত হয় কোটি কোটি ব্রাজিলপ্রেমী। স্কোরলাইনে ক্রোয়েশিয়ার পাশে একটি গোল থাকলেও এ খেলার সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য দিক, চারটি গোলই এসেছে সেলেসাওদের পায়ের ছোঁয়া থেকে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আগেও যারা এই আয়োজন করার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল নিশ্চিতভাবে সেই ব্রাজিলিয়ানরাও এই ফল দেখে আনন্দে মাতোয়ারা। হবেই না বা কেন ? বিক্ষোভটা দলের বিরুদ্ধে নয়, ছিল তাদের সরকারের বিরুদ্ধে। ‘এ’ গ্রুপের পরের ম্যাচে শুক্রবার রাত ১০টায় মাঠে নামছে মেক্সিকো ও ক্যামেরুন।








