ব্রাজিলের চিরায়ত রং হলুদ। সেই হলুদই ভর করেছে করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায়। ৬৪ বছর পর তীর্থভূমিতে ফিরেছে ফুটবল। আর তাকে স্বাগত জানাতে হলুদের ঢেউ উঠেছে অ্যারেনা করিন্থিয়ান্সে। সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় ব্রাজিলিয়ান সাম্বায় বর্ণাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’–এর পর্দা ওঠে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বিশ্বকাপের ২০তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিশ্বকাপের মতো একটা ইভেন্ট, যাকে বলা হয়ে থাকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তেমন ঝিলিক কোথায় ব্রাজিলে? দেখা গেল না আতশ বাজি বা লেজার লাইটের কারসাজি। নেই প্রযুক্তির তেমন কোনও চমক। কিন্তু তাতে কী হয়েছে? উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উঠে এলো ফুটবল পাগল জাতি হিসেবে খ্যাত ব্রাজিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনায় উঠে এলো আমাজন থেকে নাগরিক ব্রাজিলের গল্প। পারফরম্যান্স থিমে ব্রাজিলের প্রকৃতি, মানুষ আর ফুটবলের জয়গান। মাত্র ২৫ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাজিলিয়ান ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচের মোহনীয় ছন্দ, অ্যাক্রোবেটিক জিমন্যাস্টের যুথবদ্ধ প্রদর্শনী, ট্রাম্পোনিলিস্ট ও মার্শাল আটের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে টিভির পর্দায় আটকে ছিল বিশ্বের শতকোটি চোখ। সবার শেষে জেনিফার লোপেজ, র্যাপার পিটবুল ও ক্লদিয়া লেইতের গাওয়া অফিশিয়াল থিম সং ‘ওলে ওলা’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সাও পাওলোর উদ্বোধন যত জৌলুস ভরাই হোক, সেটা তো মাত্র আধ ঘণ্টার। এ নিয়ে আফসোস থাকতে পারে দর্শকদের! কিন্তু বুঝতে হবে বাস্তবতাও। এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ। আয়োজকদের খরচ এরই মধ্যে ১৪শ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা কিনা সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের খরচের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি। অতিরিক্ত এ খরচ তুলতে ব্রাজিলে সব ধরনের সরকারি সেবার দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঘণ্টাখানেক আগেও ব্রাজিলিয়ানরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তবে বিতর্ক যাই থাকুক ফুটবলটা ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ধর্মের মতো। সেই ধর্মটা যদি নেইমাররা ঠিকঠাক পালন করতে পারেন তবেই ধুঁয়ে মুছে যেতে পারে ব্রাজিলবাসীর ক্ষোভ।








