বাংলাদেশের ফুটবলে একের পর এক বিতর্কিত কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনসহ কর্মকর্তাদের তুলোধোনা করেছিলেন শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদের। এবার বাফুফের চোখের সামনে দিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে দশ ফুটবলারদের নিয়ে গেছেন তিনি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচিত ফুটবল ম্যাচ। অথচ এর ২৪ ঘণ্টা আগেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে গিয়ে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ দশ ফুটবলারকে নিয়ে আসে শেখ জামাল। তবে ঘণ্টাখানেক পর তারা পুনরায় ক্যাম্পে যোগ দেয় বলে জানা গেছে।
খেলোয়াড়দের কোথায় এবং কী কারণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ক্যাম্প থেকে খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারেননি জাতীয় দলের ম্যানেজার ও বাফুফে সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু।
বাফুফের বেতনভুক্ত সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘খেলোয়াড়দের না নেওয়ার জন্য শেখ জামাল কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেননি। আমাদের বারণ সত্ত্বেও ক্যাম্প থেকে শেখ জামালের চুক্তিবদ্ধ ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
এমন ঘটনার পরও মনজুর কাদের সম্পর্কে মুখ খুলতে নারাজ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। মুঠোফোনে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এ ঘটনা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করব না।’
জাতীয় দলের দশ ফুটবলারকে নিয়ে যাওয়া হলেও বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন করান কোচ ফ্যাবিও লোপেজ।
এদিকে শেখ জামালের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে খেলোয়াড়দের মনোযোগে প্রভাবিত হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের কোচ। এছাড়া দশ ফুটবলার ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার আগে সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিকমতো নিতে পারল না জাতীয় দল।
জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদের। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘জামালের ফুটবলাররা অনেকদিন দেশের বাইরে ছিল। দেশে ফেরায় তাদের সঙ্গে লাঞ্চ করতে সোমবার দুপুরে বাফুফের কাছে সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু বাফুফে তাদের বিকাল ৩টার দিকে পাঠায়।’
লাঞ্চ শেষে ফুটবলাররা জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে জানা গেছে, দশ ফুটবলারকে তুলে নিলেও ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়াকে নেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে শেখ জামালের চুক্তি শেষ হয়েছে গত আগস্টে। অথচ চট্টগ্রাম আবাহনী জামাল ভূঁইয়াকে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে খেলাতে চেয়েও পারেনি। তখন চুক্তির দোহাই দিয়ে জামাল ভূঁইয়াকে আটকে দেন মনজুর কাদের।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে রহমতগঞ্জের সঙ্গে পাতানো ম্যাচ খেলার অভিযোগে জরিমানা গুণতে হয়েছিল শেখ জামালকে। সালাহউদ্দিন-সালাম মুর্শেদীসহ বাফুফে কর্মকর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেও পার পেয়ে যান শেখ জামালের সভাপতি।
/আরএম/এআর/এএইচ/








