কে হবেন ফিফা ব্যালন ডি অর ২০১৫ জয়ী? লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো নাকি নেইমার? প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জানুয়ারির ১১ তারিখ পর্যন্ত। আর এ প্রশ্নে সারা বিশ্বের ফুটবলামোদীরা এখন তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। কেউ বলছেন মেসিই হবেন সেরা, কইে বলছেন রোনাল্ডো তার মুকুট অক্ষুণ্ন রাখবেন। আর যারা নেইমারের ভক্ত তাদের এক কথা মেসি-রোনাল্ডোর দিন শেষ এবার পতাকা উড়বে নেইমারের।
প্রথমে কিন্তু জেনে নিতে হবে ব্যালন ডি অরের ভোটিং প্রক্রিয়াটি। যে তিনজন ২৩ জনের তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত তিনে ঠাঁই পেয়েছেন তারা সারা বিশ্বের ২১৪ জন কোচ ও সাংবাদিকের সমর্থন পেয়েছেন। তবে পার্থক্য গড়ে দেবে এই ভোটের র্যাংকিং পদ্ধতি। তিনজনকেই ভোট দিতে হবে তবে নিজ পছন্দ অনুযায়ী একজনকে প্রথম, একজনকে দ্বিতীয় ও একজনকে তৃতীয় স্থানে রাখতে হবে। পছন্দের তালিকার প্রথম জন পাঁচ, দ্বিতীয় জন তিন ও তৃতীয় জন এক পয়েন্ট পাবেন। এরপর দেখা হবে কে কত পয়েন্ট পেয়েছেন। যিনি সবচেয়ে বেশী পয়েন্ট পাবেন তিনিই হবেন ২০১৫ সনের ফিফা ব্যালন ডি অর জয়ী।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে রোনাল্ডো কিন্তু এগিয়ে আছেন। চলতি মৌসুমে ২০ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৬ টি গোল যা মেসির চেয়ে বেশী। মেসি করেছেন ১৩ ম্যাচে ৯ গোল এবং নেইমার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন ১৬ বার আর ম্যাচ খেলেছেন ১৯টি। তবে চলতি মৌসুমের শুরুর দিকটির চেয়ে বিগত মৌসুমের শেষেরে দিকের পারফরম্যন্সই মূখ্য।
এখানে আবার মেসির ধারেকাছে নেই বাকি দুই জন। মেসি বার্সেলোনার হয়ে বিগত মৌসুসে জিতেছেন লা লিগার শিরোপা, ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপ দেল রে। রোনাল্ডো কিন্তু শিরোপাহীন। সাফল্য অবশ্যই স্বীকৃতির অন্যতম শর্ত। এ বিভাগে মেসি ও নেইমার দু’জনই রোনাল্ডোর চেয়ে এগিয়ে। আবার সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলছেন ফুটবলবোদ্ধারা, মেসি নেইমার খেলছেন এমন এক দলে যাদের যোগ্যতা, ফর্ম ও পারফরম্যান্স বিশ্বের সেরা। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ইভান রাকিটিচ ও লুইস সুয়ারেজ পাশে খেললে অনেকের জন্য গোল করাটা সহজ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করছেন রোনাল্ডোর সমর্থকরা। রোনালেডার রিয়াল মাদ্রিদে তিনিই একক রাজা, একাই তিনি টেনে নিয়ে চলেছেন তার দলকে। তিনিই বিশ্বের একমাত্র স্কোরার যার স্কোরিং রেট প্রতি ম্যাচে প্রায় এক গোলের কাছাকাছি।
২৮ বছর বয়সী মেসি বয়সে রোনাল্ডোর চেয়ে দুই কম। মেসি কিন্তু দলের আক্রমণ গড়তে বেশী আবদান রাখেন। ২০১৫ সালে মেসির ’অ্যাসিস্ট’ বা চূড়ান্ত পাসে গোল হয়েছে ২৪টি যেখানে রোনল্ডোর অবদান ১৪টি। মেসি দলকে নিয়েগিয়েছিলেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে তবে অ্যালেক্সিস সানচেজের চিলির কাছে হেরে যান ফাইনালে।
মেসি-রোনাল্ডোর দড়ি টানাটানির মাঝে নেইমার বেরিয়ে যাবেন কিনা কে জানে? দূরন্ত ফর্মে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা। মেসির আঘাতজনিত শূণ্যতা তিনি অনুভব করতে দেননি বার্সেলোনাকে।১২ ম্যাচে ১৪ গোল কম কথা নয় তবে ব্রাজিলের জন্য কোপা আমেরিকায় তিনি কোনও অবদান রাখতে পারেন নি। নেইমার কিন্তু একটি বিভাগে এগিয়ে আছেন সেটি হলো গত ও চলতি মৌসুমে তাকে ১০৪ বার ফাউল করা হয়েছে যা লা লিগার তালিকায় দ্বিতীয়।
২০১৫ সালে রোনালদো, মেসি ও নেইমার –
রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ এবং পর্তুগাল): ৫১ ম্যাচে ৪৮ গোল (০.৯৪ প্রতি ম্যাচে)
মেসি (বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনা): ৫৪ ম্যাচে ৪৪ গোল (০.৮১ প্রতি ম্যাচে)
নেইমার (বার্সেলোনা এবং ব্রাজিল): ৫৪ ম্যাচে ৪২ গোল (০.৭৮ প্রতি ম্যাচে)
/এআর/








