পিছিয়ে থেকে একের পর এক আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ করেও ম্যাচে সমতা আনতে পারেনি। অনেক প্রত্যাশার সেমিফাইনালে হারাতে পারেনি রহমতগঞ্জকে। মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে টিভিএস ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে পুরান ঢাকার দলটি।
রহমতগঞ্জের দুই ডিফেন্ডারই মূলত মোহামেডানের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন-তাজিক আকপোপোব আশরোরভ ও গিনির কামারা ইউনুসা। এই দুজনের সঙ্গে অন্যরা সমানভাবে কাঁধ মিলিয়েছেন। যে কারণে সোলেমান দিয়াবাতে-আমিনুর রহমানদের পক্ষে রহমতগঞ্জের রক্ষণ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের ১৬ মিনিটের মধ্যে রহমতগঞ্জ নিজেদের ভাগ্য গড়ে ফেলে।শাহেদুল আলমের ডানপ্রান্তিক ক্রসে উজবেক খেলোয়াড় তুরায়েভ আখোবি হেডে গোল করে বসেন। আর ওটাই শেষ পর্য়ন্ত হয়ে দাঁড়ায় জয়সূচক গোল। এক গোলে পিছিয়ে থেকে মোহামেডান প্রেসিং ফুটবলে ফিরে আসে।আক্রমণও কম করেনি ।তবে অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বেশিরভাগ সময় খেই হারিয়েছে তারা ।এছাড়া এ ম্যাচে দলীয় সমন্বয়টাও ছিল না মোহামেডানের।
৪৪ মিনিটে সতীর্থের ক্রস থেকে ইউসুফ সিফাত হেডে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যায় সাদা-কালোরা। বিরতির পরও রহমতগঞ্জ রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাদা-কালোরাই বরং চাপ সৃষ্টি করে গেছে। ৭৮ মিনিটে মোহামেডানের আমিনুর রহমান সজীবের শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৮৩ মিনিটে এনামুল হোসেন গাজীর আচমকা এক শট গোলকিপার রুখে দিয়ে রহমতগঞ্জকে ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই রহমতগঞ্জ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন।এটি যে ক্লাবের নতুন ইতিহাস!প্রথমবার ফাইনালে উঠতে পেরে রহমতগঞ্জের কোচ গোলাম জিলানি উচ্ছ্বসিত,‘আমার ট্যাকটিস ছিল শুরুর দিকে ১৫ মিনিট চাপ প্রয়োগ করে খেলবো।তাতে আমি সফল । এরপর নিজেদের ডিফেন্স ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ডিফেন্ডাররা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছে।।’
বিদায় আগে হলে হতে পারতো। কিন্তু সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ে মোহামেডানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ শন লেন হতাশ,‘আমরা শুরুর দিকে ভালো খেলতে পারিনি। প্রথম ১৫ মিনিট ছেলেরা ঘুমিয়ে ছিল!এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো খেলেছে। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে কিছু করা সম্ভব হয়নি।সোলেমান অন্যদের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা পায়নি।’








