আর একটু হলেই বসুন্ধরা কিংসকে রুখে দিয়েছিল উত্তর বারিধারা। কিন্তু অল্পের জন্য এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারল না আলফাজ আহমেদের দলটি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের প্রিমিয়ার লিগে শুরুটা বরং হলো জয় দিয়েই। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে দানিয়েল কলিনদ্রেসের একমাত্র গোলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্কার ব্রুজনের দল।
আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম নেমেছিল দর্শকের ঢল। ঢাক-ঢোল বাদ্যি-বাজনা নিয়ে সমর্থকেরা সমর্থন জানিয়েছে স্বাগতিক দলকে। রক্ষণ জমাট রেখে উত্তর বারিধারা খেলার চেষ্টা করেছে। মাঝে-মধ্যে আক্রমণেও গেছে তারা। বসুন্ধরার নিয়মিত একাদশের মতিন মিয়া,মাশুক মিয়া জনি ও বিপলু আহমেদ চোটের কারণে খেলতে পারেননি। ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে খেলেছেন কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড কলিনদ্রেস।
বল দখলে বসুন্ধরা এগিয়ে থাকলেও বলার মতো আক্রমণ করতে পেরেছে কমই।৭ মিনিটে কলিনদ্রেসের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ৪০ মিনিটে বারিধারা ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি। তাদের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ল্যান্ডিং দারবোর শট গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো ফিরিয়ে দেন।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর বসুন্ধরা দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছে একেবারে তেড়েফুঁড়ে। আর্জেন্টাইন দেলমন্তের বাঁ পায়ের জোরালো শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭০ মিনিটে কলিনদ্রেসের শট প্রতিহত হয় ক্রসবারে।
প্রতি-আক্রমণে উঠে বারিধারা গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল। তাদের একজনের প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় বসুন্ধরা। বদলি মাহবুবুর রহমান সুফিলের ক্রস থেকে গোলকিপার বলের গতি বুঝতে পারেননি,বক্সের ভিতরে বল পেয়ে কলিনদ্রেস টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন।
পিছিয়ে থেকে একবার ম্যাচে সমতা আনার চেষ্টা করেও বারিধারা সফল হতে পারেনি। শেষ পর্য়ন্ত তাদের শূন্যহাতে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
বসুন্ধরাকে প্রচণ্ড চাপে রেখেও তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়তে পারলো না কেন বারিধারা? নীলফামারী যে বসুন্ধরার পয়মন্ত ভেন্যু। গত লিগে এখানে ১২ ম্যাচ খেলে সম্ভাব্য ৩৬ পয়েন্টের ৩৪টিই পকেটে পুরেছিলো তারা। ১১ জয়ের পাশে ড্র ছিল মাত্র এক ম্যাচে।সুতরাং নীলফামারীতে বসুন্ধরাকে হারাতে পারা একটা ব্যাপার অবশ্যই। তাছাড়া দলটিতে আছেন বিশ্বকাপে খেলা কলিনদ্রেস। তার একটা ছোঁয়াতেই কাজের কাজ হয়ে যায় বসুন্ধরার! লিগের প্রথম ম্যাচেই বারিধারা সেটি বুঝতে পারলো কঠিনভাবে।








