করোনাভাইরাস গোটা পৃথিবীর জন্য কী ভীষণ আঘাত ছিল ভবিষ্যতে সেটির বড় প্রমাণ হয়ে থাকবে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের এক বছর পিছিয়ে যাওয়া। গত ২৪ মার্চ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও টোকিও আয়োজক কমিটি অলিম্পিক এক বছর পিছিয়ে ২০২১ সালে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আগামী বছরেও টোকিও অলিম্পিক হবে কি না সংশয় আছে।
আইওসি ও টোকিও আয়োজক কমিটি গত সপ্তাহে যৌথ সভায় বসে আশার বাণী শুনিয়েছে যে আগামী বছর সুষ্ঠুভাবেই অলিম্পিক আয়োজিত হবে, যা হবে ‘সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলোর রেখা’। কিন্তু বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী দেবী শ্রীধর বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কৃত না হলে আগামী বছরও টোকিওতে অলিম্পিক আয়োজনের সম্ভাবনা তিনি দেখেন না। তার স্পষ্ট মত, একমাত্র কার্যকরী ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা নিশ্চিত হলেই অলিম্পিক সম্ভব , অন্যথায় নয়।
আইওসির সমন্বয় কমিশনের প্রধান জন কোটসও বৃহস্পতিবার বলেছেন, আগামী বছর ২৩ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে নির্ধারিত অলিম্পিকেও প্রভাব ফেলতে পারে কোভিড-১৯। কারণ অ্যাথলেটদের জমায়েত ও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাই সমস্যা তৈরি করবে।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান দেবী শ্রীধর বলেছেন, টোকিও অলিম্পিক আয়োজন নির্ভর করবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের টিকার ওপর, ‘আমরা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে শুনছি টিকা এসে যাবে। আমার ধারণা ছিল এটি পেতে এক বা দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখন শুনছি তাড়াতাড়িই এসে যাবে। আগামী বছরের মধ্যে টিকা পাওয়া গেলে অলিম্পিকটা হতে পারে। আর বিজ্ঞানীরা তাড়াতাড়ি আবিষ্কার করতে না পারলে সেটি হবে অবাস্তব পরিকল্পনা।’
করোনাভাইরাস মহামারির কবল থেকে জাপান এখনও মুক্ত নয়। ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখতে সে দেশে আগামী ৬ মে পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। টোকিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়োশিয়ো মোরির দেওয়া তথ্য, এ বছরের অলিম্পিক বাতিল হওয়ার পর করোনা-পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মোরি মনে করেন, এই টাস্কফোর্স পরের বছর সুষ্ঠু অলিম্পিক আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে। মোরির কথা, ‘গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমরা গেমস আয়োজনের জন্য আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই আরেকটি বছর একইভাবে ও নতুন উদ্যমে কাজ করাটা কোনও সমস্যা নয়।’








