স্বাধীনতার কয়েক বছর পরই বাবা-মা চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানেই জন্ম লিটন জামানের, বেড়ে ওঠাও। ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কটাও গড়ে ওঠে সেখানে। পেশাদার ফুটবলে নাম লেখাতে পারেননি। তবে কোচ হিসেবে পেশাদার ক্লাবের একাডেমিতে কাজ করছেন খুব সুনামের সঙ্গে। তাও যেমন তেমন নয়, ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম একাডেমির সঙ্গে কাজ করছেন সেই ২০১৪ সাল থেকে। এখানে জন্ম না নিলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই ব্রিটিশ স্বপ্ন দেখেন, একদিন কাজ করবেন বাংলাদেশেও।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন লিটন। কাজ করছেন ইংলিশ এফএর কোচিং মেন্টর হিসেবেও। এর আগে খেলোয়াড় হিসেবে শুরুটা ইংল্যান্ডের অপেশাদার লিগে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যে কয়েকজন খেলোয়াড় এফএ কাপে অংশ নিয়েছেন, লিটন তাদের অন্যতম।
এখন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ বাংলাদেশেও কাজ করতে আগ্রহী। জানালেন এমন পরিকল্পনার কথা। ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আমার বাড়ি। যেখানেই থাকি না কেনও, জাতীয় দলের খেলার খবর নিয়মিত রাখি। তাই কখনও সেখানে কাজের সুযোগ এলে অবশ্যই আমি ভেবে দেখবো। সত্যি বলতে, আমার পরিকল্পনাও আছে বাংলাদেশে কাজ করার। শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব ফুটবলেও কাজ করার ইচ্ছা আছে।’
বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মণের সঙ্গে বেশ আগে থেকে পরিচয় লিটনের। ২০০৮ সালে ক্যানারি ওয়ার্ফের হয়ে তপু ওয়েস্ট হ্যাম একাডেমিতে ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলেন। লিটনের সঙ্গে তার যোগাযোগটা ঘটে সেখানেই। লিটন জানালেন তপুর সঙ্গে এখনও তার কথা হয়, ‘তপুকে যুবদল থেকে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলে খেলতে দেখাটা আমার জন্য দারুণ কিছু। ও যখন ইংল্যান্ডে এসেছিল তখন আমার সঙ্গে ওর পরিচয় হয়। আমরা এক সঙ্গে কাজও করেছি। এখনও ওর সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়।’
করোনাভাইরাসের কারণে অনুশীলন বন্ধ, তাই একাডেমির ছাত্রদের সঙ্গে লিটনের কথা হচ্ছে অনলাইনে। তবে এই অবস্থায় দেশের কথাও মনে পড়ে তার, ‘আমি কিছুদিন আগে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরী আর কোচদের সঙ্গে কাজ করে গেয়েছি। তারা মানুষ হিসেবে দারুণ। আমি বাংলাদেশে বেশ অনেকবারই বেড়াতে গিয়েছি, সিলেটেই আমার বাড়ি। এমন কঠিন সময়ে বাংলাদেশের কথা মনে না পড়ে কীভাবে।’








