ক্লাব ক্রিকেটই বেশিরভাগ ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির উৎস। অথচ এখানেই বারবার আঘাত হানছেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ কর্তা-ব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার ক্লাব প্রতিনিধিদের ভোটাভুটিতে পাস হয় প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতি। এ মৌসুমে ক্রিকেটাররা প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতিতেই দলভূক্ত হবেন। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম)এমন সিদ্ধান্তের পর সাবেক এবং বর্তমান অনেক ক্রিকেটারই বিরক্ত।
স্থানীয় এক ক্রিকেটার শুক্রবার এই পদ্ধতির বিপক্ষে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ থাকলে একজন খেলোয়াড় কখনও স্বাধীনভাবে খেলতে পারে না। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বেশি। দেখা যায় তারা এমন একটা দলে যায় যেখানে ভালো সুবিধা পাওয়া যায় না। যা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। জাতীয় দলের বাইরের খেলোয়াড়দের জন্যও এটি রুটি রুজিতে আঘাত হানার মতো বিষয়। কেনান আগের পদ্ধতিতে হলে একজন ক্রিকেটার তার চাহিদামতো অর্থে যে কোনও একটি দলে খেলার সুযোগ পেত। কিন্তু এই পদ্ধতিতে তা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার বিশ্বাস বিসিবি এটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবে। ক্রিকেটারদের ভালো হয় এমন সিদ্ধান্তই নেবে তারা।’
প্লেয়ার বাই চয়েজ ফর্মূলায় দল-বদলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। তিনি বলেন, ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ ফর্মূলায় কেন দল-বদল হবে, তা জানতে চেয়ে ক্রিকেটারদের ফোনের পর ফোন পাচ্ছি। ক্রিকেটারদের স্বাধীনভাবে পছন্দের দল বেছে নেয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে আমরা এই পদ্ধতি সমর্থন করি না। একবার প্লেয়ার বাই চয়েজ পরীক্ষামূলকভাবে প্রবর্তনের পর পরবর্তী মৌসুমে পুরোনো পদ্ধতিতে দল-বদল হলো, অথচ আবার কেন প্লেয়ার বাই চয়েজে যেতে হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে এভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি।’
এদিক সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘এই পদ্ধতির সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই আছে। সুবিধা হচ্ছে ছোট দলগুলো ভালো খেলোয়াড় পাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভালো খেলোয়াড়রা তাদের যোগ্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়। আমি মনে করি, ক্যাটাগরি ভাগ করার ক্ষেত্রে ক্রিকেটাররা যদি খুব বেশি বৈষম্যের শিকার না হলে এই পদ্ধতি খুব কার্যকর ভূমিকা রাখবে।'
উল্লেখ্য, প্লেয়ার বাই চয়েজ পদ্ধতিতে দল-বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ক্রিকেটারদের গ্রেডেশন, দল বদলের তারিখ এবং লীগ শুরুর সময়সীমা নির্ধারণ করেনি সিসিডিএম। সিসিডিএম’র সদস্য সচিব রাকিব হায়দার পাভেল জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের পরবর্তী সভায় দল-বদল এবং লীগ শুরুর তারিখ ঘোষণা করার কথা।
/আরআই/এমআর/








