করোনাভাইরাসের প্রকোপে খেলা বন্ধ রয়েছে এখনও। তবে ৮ অক্টোবর থেকেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। সেই মিশনকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে। তবে ক্যাম্প শুরুর আগে ডাক পাওয়া সকল খেলোয়াড়দের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ এমনই তথ্য দিয়েছেন।
ন্যাশনাল টিমস কমিটর সভা হয়ে গেছে বুধবার। অনলাইনে হওয়া সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে শুরুতে ৪৪ জন খেলোয়াড়কে প্রাথমিকভাবে ডাকা হবে। আর সবারই কোভিড-১৯ টেস্ট শেষে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দ্রুত দল গোছানো হবে। এ সময়ে সবাইকে আইসোলেশনেও থাকতে হবে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে হবে মূল ক্যাম্প।
অনলাইন ব্রিফিংয়ে কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ আগে ক্যাম্প করতে হলে আগস্টের ২০ কিংবা ২২ তারিখে তা শুরু করতে হবে। শুরু করার আগে সব খেলোয়াড়দের ধাপে ধাপে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা হবে কোচিং স্টাফদেরও। এরপর আইসোলেশনে থাকতে হবে। বিদেশি কোচিং স্টাফরা দেশে ফিরলে তাদেরও আইসোলোশনে থাকতে হবে। দেখতে হবে তারা সকলেই করোনা মুক্ত আছে কিনা। এর পর আগস্টের শুরুতে প্রাথমিক ক্যাম্প শুরু হবে।’
তবে করোনা পরিস্থিতিতে আবাসিক ক্যাম্প কোথায় হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। ঢাকা বা ঢাকার বাইরে কয়েকটি ভেন্যু বাফুফের ভাবনায় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সহ-সভাপতি বলেছেন, ‘বর্তমানে কয়েকটি জায়গা আমাদের চিন্তা-ভাবনায় আছে। ঢাকা কিংবা ঢাকার আশাপাশে ক্যাম্প করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে হোটেল সুবিধাও দেখতে হবে। সব মিলিয়ে আমাদের ৮ সপ্তাহ আবাসিক ক্যাম্পের কথা চিন্তা করতে হবে।’
বিদেশে কোনও ক্যাম্প হবে কিনা, তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। তবে কোচ জেমি ডের চাওয়া বিদেশে যেন ক্যাম্প হয়। কিন্তু কাজী নাবিল বলেছেন, ‘বিদেশে ক্যাম্প হবে কিনা, তা সেই সময়ের অবস্থা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও আমাদের কোচ বিদেশে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অন্য দেশ আমাদের গ্রহণ করবে কিনা, আমরাও যেতে পারবো কিনা, তা সময় হলেই বুঝতে পারবো।’
আপাতত বড় পরিসরে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। সেখান থেকে খেলোয়াড় কমিয়ে দ্রুত দল গোছানো হবে বলে জানিয়েছেন কাজী নাবিল, ‘শুরুতে ৪৪ জনকে ডাকবো। করোনা পরীক্ষা করিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড় সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। সংখ্যাটা ৩০ বা ৩৫ হতে পারে।’
অনুশীলনের ফাঁকে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়েও ভাবছে টিমস কমিটি। তবে কাজী নাবিল জানিয়েছেন, ‘অনুশীলন ম্যাচ খেলার বিষয়টি এই মুহূর্তে বলা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে দেশের কোনও ক্লাবই প্রস্তুত থাকবে না। কাছাকাছি সময়ে গেলে তখন বলা যাবে। তবে আমাদের নিজেদেরই হয়তো দুটো দল প্রস্তুত রাখতে হবে।’ এই সময়ে অনুশীলনের ফাঁকেও চলবে করোনা পরীক্ষা। ১৪ দিন পর পর টেস্ট করে দেখা হবে কেউ সংক্রমিত কিনা।








