বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে সামরিক যুদ্ধ ছিল না এটি, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে চলছিল বিজয় দিবস হকির খেলা। কিন্তু তারপরও সেখানে দেখা গেল খেলোয়াড়দের যুদ্ধাংদেহী মনোভাব। বেশ কয়েকবার অ্যাম্পয়ারদের ওপর চড়াও হলেন তারা। দফা দফায় খেলা বন্ধ থাকলো। ফলে নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টারও বেশি সময় পর খেলা শেষ হয়। সোমবারের ম্যাচে মুখোমুখি হয় সেনা ও নৌবাহিনীর হকি দল। এদিন উভয় দলে খেলা জাতীয় দলের একঝাঁক হকি খেলোয়াড় মঞ্চস্থ করলেন নানান নাটক। আর তাতে বরাবরের মতো খলনায়কের ভূমিকায় বাংলাদেশ হকি অঙ্গনে বহু ঘটনার হোতা জাতীয় হকি দলের তারকা ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি। খেলাটি শুরু হয়েছিল দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। শেষ হওয়ার কথা দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। কিন্তু খেলা শেষ হলো বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর। কারণ জিমির কারণে শুরু হওয়া বাক-বিতণ্ডা আর এর রেশে ক্রমাগত ঘটতে থাকা নানা বিতর্কিত ঘটনা। জাতীয় দলের একাধিক তারকা খেলোয়াড় সমৃদ্ধ নৌবাহিনী দল প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা পরিচালনা করছিলেন দেশের দুই স্বীকৃত অ্যাম্পায়ার সেলিম লাকি ও শাহবাজ আলি। দুজনেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে হকি খেলা পরিচালনা করে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধের পর অ্যাম্পয়ার শাহবাজ নৌবাহিনীর বিপক্ষে একটা পেনাল্টি কর্নার দিলেন সেনাবাহিনীকে, কারণ জাতীয় দলের অন্যতম ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন আম্পায়ারের কল সম্পন্ন হওয়ার পরও স্টিক দিয়ে বল লাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্পয়ারের কল সম্পন্ন হওয়ার পরও বলে আঘাত করলে তাতে পেনাল্টি কর্ণার হবে। সে হিসেবে পেনল্টি কর্নার দেন তিনি। তারকা ফরোয়ার্ড জিমি তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন মাঠের অপর প্রান্তে, তিনি তেড়ে গেলেন শাহবাজের দিকে। শাহবাজকে অনেকটা মারতে উদ্যত হলেন। এরপর তিনি আন্যান্য খেলোয়াড়দের প্ররোচিত করলেন না খেলার জন্য। খেলা বন্ধ থাকলো ১৫ মিনিট। আবার খেলা শুরু হওয়ার পর সেনাবাহিনী আরও একটি পেনাল্টি কর্নার পেলো। কিন্তু নৌবাহিনীর রক্ষণভাগ সেটি বিপদমুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে জিমি আবার খেলােয়াড়দের খেলা বন্ধ করার ডাক দিলেন। সাইড লাইনে গিয়ে কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিলেন অ্যাম্পয়ার পরিবর্তন না করলে তারা খেলবেন না! ফলে আবারও খেলা বন্ধ। প্রায় ২৫ মিনিট পর ফের খেলা শুরু। এবার মঞ্চে এলাে সেনাবাহিনী। একটি পেনাল্টি কর্ণার গোল বাতিল করাতে খেলতে অস্বীকৃতি জানাল তারা। অথচ গোলের আগেই শাহবাজ বাঁশি বাজিয়েছিলেন। বল ওপরে উঠে গেছে সুতরাং এটি ফাউল। কিন্তু এবার সেনাবাহিনী বেঁকে বসলো। ফলে খেলা আবার বন্ধ। ২০/২৫ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোল জিতল নৌবাহিনী।
ম্যাচ শেয়ে শাহবাজ আলি বলেন, 'খেলোয়াড়রা নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবগত কিন্তু তারা ইচ্ছে করে যদি এ রকম করেন তবে আমাদের কী করার আছে? তাছাড়া জিমির মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা যদি এ রকম আচরণ করেন তাহলে আমরা খেলা নিয়ন্ত্রণ করবো কিভাবে?'
অন্য অ্যাম্পায়ার সেলিম লাকি বলেন, 'ফেডারেশনের উচিৎ অ্যাম্পয়ারদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি দেখা, তাহলে তারা নিশ্চিন্তে বাঁশি বাজাতে পারবে, মাঠে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি।'
/এমআর/








