পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের এস্তাদিও দা লুজের দিকে তাকিয়ে আজ ফুটবলপ্রেমীরা। এই করোনাকালেও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল যেখানে আলাদা সুরভি ছড়িয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ হচ্ছে আজ ফাইনাল দিয়ে। রাতের কৃত্রিম আলোয় দর্শকবিহীন মাঠে শেষ দ্যুতিটা ছড়াতে যাচ্ছে কারা? বায়ার্ন মিউনিখ, না প্যারিস সেন্ত জার্মেই (পিএসজি)?
গোটা ফুটবল বিশ্বেই চলছে জল্পনা-কল্পনা, ফুটবলামোদী মাত্রই হিসেব-নিকেশ কষছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় চলছে এই আলোচনা। ধ্রুপদী ফুটবলের নেশায় জমজমাট এক ফাইনালের প্রত্যাশা সবার কাছেই। বায়ার্নের ষষ্ঠ নাকি পিএসজির হাতে যাবে প্রথম ট্রফি? এমন প্রশ্নের উত্তরে সমর্থক-দর্শকেরা যখন দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছেন, সেখানে বাংলাদেশ দলের কোচ ইংলিশ কোচ জেমি ডে ও অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও ভিন্ন মতের অনুসারী। নানাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন তারা বেনফিকার মাঠে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটিকে। দুইজনই মানছেন বায়ার্ন মিউনিখ ফেবারিট। ডের বিশ্বাস, জার্মান দলটির হাতেই ষষ্ঠ শিরোপা উঠবে। আর জামালের ধারণা, বায়ার্ন ফেবারিট হলেও পিএসজিই পাবে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ!
করোনার কারণে এবার শেষ আটের বেশির ভাগ ম্যাচ এবার হয়েছে এক ভেন্যুতেই । বেনফিকার স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে আরও একটি ঐতিহাসিক ম্যাচের সাক্ষী। বায়ার্ন বা পিএসজি নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে শেষ লড়াইয়ে। নিজেদের স্টাইলে তারা বেশ উজ্জ্বল।
তবে নকআউট পর্বের এ পর্যন্ত পেরিয়ে আসা রাস্তায় বায়ার্ন অপরাজেয় থাকলেও পিএসজি পেয়েছে হারের স্বাদ। শেষ ষোলোর এক লেগে জার্মানির আরেক পরাশক্তি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হার মানতে হয়েছে তাদের। যদিও এরপর থেকে তাদের জয়রথ ছুটেছে বিরামহীন। কোয়ার্টার ফাইনালে আতালান্তা ও সেমিফাইনালে লাইপজিগকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
বায়ার্ন অবশ্য এবার কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনাকে ৮ গোলের মালা পরিয়েছে। এছাড়া লিওঁকে সেমিফাইনালে হারিয়ে ট্রফি ছোঁয়ার দূরত্বে এসে দাঁড়িয়েছে।
এমন অপ্রতিরোধ্য বায়ার্নকে দেখে জেমি ডে তাদেরই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন মনে করছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি ফাইনালের ট্রফি যাবে বায়ার্ন মিউনিখের ঘরে। তারা সবদিক দিয়ে পিএসজির চেয়ে এগিয়ে। ডিফেন্স থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ। ১১জন এই এক তাল-লয়ে খেলতে পারে। তাদের হাইলাইন ডিফেন্স দেখার মতই। ম্যাচটি বায়ার্নের অনুকুলে ৬০-৪০।’
নেইমার-এমবাপ্পে-মারিয়াদের নিয়ে গড়া পিএসজির আক্রমণভাগ সমীহ করার মতো। ডে পিএসজিকে একটুও খাটো করে দেখছেন না , ‘তবে পিএসজিও খারাপ নয়। ফাইনালে জিততে হলে নেইমার কিংবা এমবাপ্পে-মারিয়াদের আরও ভালো খেলতে হবে। তাদের আক্রমণভাগও ক্ষুরধার। বায়ার্নের সম্মিলিত আক্রমণ রুখে দিয়ে কতটুকু কী করতে পারে সেটাই এখন দেখার। পিএসজি জিততে পারলে তো ইতিহাসই হবে।’
কোচের সঙ্গে একমত প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া পিএসজির দিকেই ঝুঁকে পড়েছেন। বায়ার্নকে ফেবারিট মেনে এই মিডফল্ডার বলেছেন, ‘দুটি ভালো দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায়। ফেবারিট বায়ার্নই। সবদিক দিয়েই। কিন্তু আমি চাই পিএসজি জিতুক। সেই সামর্থ্য তাদের আছে। এটা ওদের প্রথম ফাইনাল। জিততে পারলে পিএসজির জন্য বড় অর্জন হবে। আমার ধারণা, ম্যাচটি পিএসজি জিতেব ২-১ গোলে।’
লেভানডভস্কি, জার্নাব্রি, মুলাররা আগের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে তছনছ করে দিয়েছে। তাদের প্রেসিং ফুটবল চোখ ধাঁধানো। লিগে তাদের গোলও বেশি। পোলিশ স্ট্রাইকার তো সর্বোচ্চ ১৫টি গোল করে সবার শীর্ষে। আর মাত্র দুটি গোল করতে পারলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম গোল হজম করা পিএসজির ভরসা নেইমার-মারিয়া-এমবাপ্পে। বায়ার্নের আক্রমভাগকে থামিয়ে দৃষ্টিনন্দন খেলে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার অপেক্ষায় তারা।
ডাগ আউটে হানসি ফ্লিক ও টমাস টুখেলের ট্যাকটিকাল চালও দেখার আছে। দুজনই জার্মান। তাই জেমি ডে কিংবা জামালের কথা মিলিয়ে নেওয়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।








