সত্যিটা বললে, নেইমার ক্লাব ছাড়ার পরই বার্সেলোনার ওপর থেকে মনটা সরে যেতে থাকে মেসির। নেইমারের যোগ্য বিকল্প আনতে না পেরে আবোল-তাবোল খেলোয়াড় সাইন করানো হয়েছে, নেইমারকে ফেরানোর মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে প্রকারান্তরে অভিনয় করেছে, সঙ্গে অনেক অপেশাদার আচরণ- বার্সেলোনার সঙ্গে ক্রমশই মানসিক দূরত্ব বেড়েছে ক্লাবের প্রাণভোমরার। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হারে ঘটেছে বিস্ফোরণ। জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের গোটা বোর্ডের ওপরই বিরক্ত মেসি। অনেকে অবশ্য সভাপতি বার্তোমেউকেই মেসির মূল কাঁটা মনে করেন। সোমবার দৈনিক মার্কা ও মুন্দো দেপর্তিভো জানিয়েছে, বার্তোমেউকে অবশেষে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।
বার্তোমেউয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনার প্রক্রিয়াটা শুরু করেছিলেন আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী জর্দি ফাররে, তার সঙ্গে পরে যোগ দেন আরও দুই প্রার্থী ভিক্তর ফন্ত ও লুইস ফার্নান্দেজ। অনাস্থা প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজন ১৬ হাজার ৫২০ জনের স্বাক্ষর। ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল শেষ সময়সীমা। ২০ বছর ধরে বার্সেলোনার সঙ্গে নিজের অস্তিত্বকে মিশিয়ে ফেলা মেসি ক্লাব ছাড়ার অনুমতি চেয়ে কাতালানদের এমনই আবেগে ভাসিয়েছেন যে, এত স্বাক্ষর জোগাড় করার কঠিন কাজটি মাত্র কদিনেই হয়ে গেছে!
বার্সেলোনার নির্বাচন নির্ধারিত হয়ে আছে আগামী ১৫ মার্চ। কিন্তু সভাপতি বার্তোমেউয়ের পদত্যাগ চেয়ে আগেই নির্বাচন চেয়েছেন তিন সভাপতি প্রার্থী। সেজন্যই অনাস্থা প্রস্তাবের দিকে যাওয়া। তাদের চোখে বার্তোমেউইয়ের কারণে ক্লাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণেই সাফল্য নেই ক্লাবের এবং মেসি বিদায় চাইছেন।
চতুর বার্তোমেউ ‘বার্সেলোনার ভালো চেয়ে’ নিজেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। চাওয়াটা অবশ্য শর্তসাপেক্ষ-মেসিকে ক্লাবে থেকে যাওয়ার ঘোষণা দিতে হবে আগে। কিন্তু বার্সা অধিনায়কের মুখ থেকে সেই ঘোষণা আসেনি। ছয়বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার তো টানা দুই মেয়াদে থাকা বার্সা সভাপতির সঙ্গে যুদ্ধে নামেননি। মানসিক প্রশান্তির জন্যই বার্সেলোনা ছাড়তে চান । যেমনটা বলেছেন মেসির খালাতো ভাই ম্যাক্সি বিয়াঙ্কুচ্চি।
অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে বার্তোমেউকে পদত্যাগ করতেই হবে। আর নির্বাচনও হবে এ বছর।








