নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও আইসিসির ম্যাচ রেফারি জন রিড আর নেই। ২০১৩ সালে আন্ত্রিক ক্যানসার ধরা পড়ার পর শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। বুধবার অকল্যান্ডে মারা গেছেন ৯২ বছর ১৩৩ দিন বয়সে। জীবিত কিউই ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বজ্যেষ্ঠ, ক্রিকেট বিশ্বের জীবিত ক্রিকেটারদের মধ্যে পঞ্চম জ্যেষ্ঠতম।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার টেস্ট দিয়ে রিডের আন্তর্জাতিক অভিষেক ১৯৪৯ সালে। ১৯৬৫ সালে অবসর নেওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৫৮ টেস্ট খেলে ৩,৪২৮ রান করেন। টেস্টে ছয় সেঞ্চুরি একটি করেন ১৯৬৩ সালে ক্রাইস্টচার্চে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দলের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ১৫৯ রানে একাই করেন ১০০। একটি সেঞ্চুরিসহ ১৫৯ রান এখনও টেস্টের সর্বনিম্ন ইনিংস। ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ড টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের বোলিং তোপে মাত্র ২৬ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ওই ইনিংসে ১ রান করেছিলেন তিনি। ওটাই এখনও পর্যন্ত টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ইনিংস। ১৯৫৬ সালে তার অধিনায়কত্বেই প্রথম টেস্ট জেতে নিউজিল্যান্ড, প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৯৫৯ সালে উইজডেন ঘোষিত বর্ষসেরা এই ক্রিকেটার ছিলেন সত্যিকারের একজন অলরাউন্ডার। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, ফাস্ট মিডিয়াম বোলিংয়ে ৮৫টি টেস্ট উইকেটও নিয়েছেন। আবার বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে মাঝেমাঝেই দাঁড়িয়ে যেতেন উইকেটের পেছনে। তবে অনেকেই মনে করেন, তার সময়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থাকলে তিনি হতেন ওই সংস্করণের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। কারণ ছিলেন হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান, সবধরনের শটই খেলতে পারতেন।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই ক্রিকেটের অন্যতম নির্বাচক ছিলেন তিনি। অবসরের অনেক পরে আইসিসির ম্যাচ রেফারি নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৫০টি টেস্ট ও ৯৮টি ওয়ানডেতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ম্যাচ রেফারি হিসেবেই বাংলাদেশের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে আছে। ২০০১ সালে মুলতানে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানিদের এক ইনিংসে পাঁচ সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশে যে টেস্টে ইনিংস ও ২৬৪ রানের হেরেছিল, সেই ম্যাচে তাকে রেফারি নিয়োগ করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আপত্তি জানিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে বলে। কিন্তু আইসিসি রিডকে প্রত্যাহার করতে যেমন অস্বীকৃতি জানায় তেমনি রিডও নাছোড়বান্দা হয়ে দায়িত্বপালন করেন পাকিস্তানে গিয়ে। বলেছিলেন, ‘আইসিসি যেহেতু দায়িত্ব দিয়েছে, আমাকে যেতেই হবে।’
পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিসকে বল ট্যাম্পারিংয়ের দায়ে বহিষ্কার ও জরিমানা করেছিলেন। পরে আজহার মেহমুদকেও একই অভিযোগে জরিমানা করায় পাকিস্তান ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিল তার ওপর। শোয়েব আখতারের বোলিং অ্যাকশন নিয়েও আইসিসির কাছে রিপোর্ট করেছিলেন তিনি।








