নেপালের সঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল সংসার এখন ভীষণভাবে আলোড়িত। প্রীতি ম্যাচ, পোশাকি ভাষায় ‘ফিফা ফ্রেন্ডলি ইন্টারন্যাশাল’, কিন্তু তা নিয়েই এমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে যা আগে কখনও দেখা গেছে বলে মনে পড়ে না। কারণটা বোঝাই যায়। প্রায় ৯ মাসের করোনাভাইরাস নির্বাসন কাটিয়ে মাঠে ফিরছে বাংলাদেশের ফুটবল। আবার কখন ফুটবলের দেখা মিলবে এ নিয়ে যে সবার মধ্যে ছিল প্রবল সংশয়।
তবে নেপালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের ডামাডোলে ঢুকে পড়লো বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ। কাতার ফিফার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে, সে দেশে গিয়ে বাংলাদেশ যাতে খেলে আসে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফিরতি ম্যাচটি। সবকিছু ঠিকঠাকমতো এগোলে আগামী ৪ থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে গিয়ে ম্যাচটি খেলে আসার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের।
আজ সোমবার দলের অনুশীলন শেষে কাতার ম্যাচের প্রসঙ্গটি তোলা হয় কোচ জেমি ডের কাছে। বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ এটি নিয়ে ভাবতেই চান না। সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন আপাতত অখণ্ড মনোযোগে তিনি নেপালের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় দুটি প্রীতি ম্যাচের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতার ম্যাচ হলে হবে পরে, সেটি নিয়ে তিনি ভাববেনও পরে। ‘ ম্যাচটি এখনও নিশ্চিত হয়নি। দুই পক্ষ খেলার জন্য সম্মতিও জানায়নি। হ্যাঁ, আলোচনা চলছে জানি। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য এখন নেপালের সঙ্গে আসন্ন দুটি ম্যাচ। এ ম্যাচ দুটিই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
যদি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কাতারে গিয়ে ওই ম্যাচ খেলতেই হয়, তাহলে ডে মনে করছেন সেজন্য ভালো প্রস্তুতিই হচ্ছে তার দলের, ‘কাতার ম্যাচ যদি হয় এই নভেম্বরে দুটি ম্যাচ খেলাটা আমাদের জন্য হবে ভালো প্রস্তুতি। আমরা অনেকগুলো ট্রেনিং সেসন করেছি এবং আশা করি কাতারের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলে আরও প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেবে ।’
গত বছর অক্টোবরে কাতার বাংলাদেশে এসে খেলে যায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ। তাতে ২-০ গোলে হারলেও প্রশংসা কুড়োয় বাংলাদেশের খেলা। জামাল-জীবনরা প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফল অন্যরকম হতে পারতো।
কাতারের সঙ্গে হোম হোক আর অ্যাওয়ে, খেলাটা সবসময়ই কঠিন। ডে জানেন বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের সঙ্গে এ ম্যাচটিও হবে খুব কঠিন, ‘আমরা কাতারের সঙ্গে এখানে খেলেছি। হোম হোক বা অ্যাওয়ে, তাদের সঙ্গে খেলাটা সবসময়ই কঠিন।’
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে খেলছে ‘ই’ গ্রুপে। চার ম্যাচ খেলে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে তাদের অবস্থান। শুধু ভারতের মাঠে ভারতের সঙ্গে ড্র করা বাংলাদেশ হেরেছে কাতার, ওমান ও আফগানিস্তানের কাছে। কাতারের সঙ্গে এই অ্যাওয়ে ম্যাচটি ছাড়া জামাল ভূঁইয়ারা বাকি তিন ম্যাচ খেলবেন ঘরের মাঠে, সেই তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ওমান ও ভারত।








