৯ নভেম্বর, ২০০০। পরদিন ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্ট ম্যাচ। রাত গভীর হচ্ছে, অথচ দু’চোখে ঘুম নেই তার। চারদিকে নিস্তব্ধতা, পুরো হোটেলে একমাত্র তিনিই জেগে আছেন! টেনশনে অস্থির বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, উত্তরপর্বে যিনি দেশের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হবেন।
ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের আগে একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নির্ঘুম রাতই কেটেছিল হাবিবুল বাশারের। বাংলাদেশ তার প্রথম টেস্ট খেলে ভারতের বিপক্ষে, ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর যা শুরু হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে ভারত বাংলাদেশে আসে একমাত্র টেস্টটি খেলতে।
মঙ্গলবার টেস্টের আঙিনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই দশক পূর্ণ হবে। সোমবার মুঠোফোনে অভিষেক টেস্টের আগের দিনের রোমাঞ্চ, ভয় ও এক অভূতপূর্ব উপলব্ধির স্মৃতিচারণ করলেন হাবিুবল বাশার। প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তিনিও এই দলের একজন সদস্য। স্বভাবতই রোমাঞ্চিত ছিলেন ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ৯ নভেম্বর ২০০০ সালের দিবাগত রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হাবিবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আগের রাতে টেনশনে ঘুমই হয়নি। খেলা নিয়ে টেনশন ছিল না, টেনশনে ছিলাম একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে। ওই সময় আমি জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলাম না। পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতা ছিল না। বাদ পড়তাম, আবার সুযোগ পেতাম। তাই একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে সন্দেহের মধ্যে ছিলাম। মনের ভেতরে ভয়ও আতঙ্কও কাজ করছিল। সারারাত ধরেই কেবল ভেবেছি প্রথম টেস্টে যদি সুযোগ না পাই………। সত্যি কথা বলতে এমন ভাবতে ভাবতেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।’
শুধু যে টেনশনেই কেটেছে হাবিবুলের তা নয়। ভারতের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে টেস্ট খেলার রোমাঞ্চও ছিল মনের মধ্যে, ‘যখন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেলাম, খুব ভালো অনুভূতি হচ্ছিল যে নামের পাশে টেস্ট ক্রিকেটার তকমা থাকবে। অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম ছিল। টেনশন থাকলেও অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম। সৌরভ সাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়ের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার রোমাঞ্চও কাজ করছিল।’
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ভারতকে চমকে দিয়ে তুলে নেয় ৪০০ রান। তাতে হাবিবুল অবদান রাখেন ৭১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে। তবে প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি।
দুর্দান্ত সব বোলারের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? হাবিবুল বলেন, ‘আমরা যখন খেলা শুরু করেছি আমাদের মধ্যে কেউই টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখেনি। আসলে ওই স্বপ্ন দেখাও খুব কঠিন ছিল। কারণ ওই ধরনের অবকাঠামো আমাদের ছিল না। তারপরও আমরা টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি এবং প্রথম টেস্টে ভালো খেলেছি। ব্যক্তিগতভাবে যদি বলি, আমি নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে বড় কথা প্রথম ম্যাচ ছিল, অতকিছু ভাবিইনি। অবশ্যই প্রথম ইনিংসের ৭১ রান সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়াই উচিত ছিল। এটি নিয়ে আক্ষেপ নেই। তবুও অভিষেকে সেঞ্চুরিটা পেলে মন্দ হতো না।’
২০ বছর ১ দিন আগে শচীন-সৌরভ-রাহুলদের শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সূচনাটা ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। এ ম্যাচেই আমিনুল ইসলাম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন। জহির খান-অজিত আগারকারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে খেলেন ১৪৫ রানের দারুণ এক ইনিংস। এর আগে হাফ সেঞ্চুরি করেন হাবিবুল বাশার। এছাড়া আকরাম খান, খালেদ মাসুদ, হাসিবুল হোসেনের ছোট ছোট অবদানে টেস্ট পরিবারের নবীনতম সদস্য বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে ৪০০ রান তোলে। ভারতের প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাঈমুর একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। অবশ্য মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখতেও বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৬২ রানের। ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে সৌরভ গাঙ্গুলীর ভারত।








