ডিসেম্বরে পা দিয়েই লিভারপুল যেন আদ্যন্ত বদলে গেছে। এই লিভারপুল আবার আলোকোজ্জ্বল, আবার বিধ্বংসী। শীর্ষস্থান ফিরে পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বাড়িয়ে নিয়ে চলেছে ব্যবধান।
হঠাৎই আলো বৃত্ত থেকে ছিটকে পড়া লিভারপুলের কঠিন সময় যাচ্ছিল সেপ্টেম্বরের শেষদিক থেকে। ৪ অক্টোবর অ্যাস্টন ভিলার মাঠে গিয়ে ৭-২ গোলে হেরেছিল লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে নাক সিঁটকাচ্ছিল অনেকেই। বলাবলি হচ্ছিল, রেডস আবার ফিরে যাচ্ছে ধূসর অতীতে! সেই লিভারপুল শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগেই একটি দলকে হারালো ৭-০ গোলে। হতশ্রী ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে এই জয় সেপ্টেম্বরের পর প্রতিপক্ষের মাঠে লিভারপুলের প্রথম।
চোটজর্জর লিভারপুলের হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প খেলোয়াড় নেই। কিন্তু মোহামেদ সালাহ, সাদিও মানে ও রবার্তো ফিরমিনো সমন্বিত আক্রমণ-ত্রিফলা ফর্মে থাকলে তাদের ঠেকায় কে? এই প্যালেসের সঙ্গেই ড্র করে শীর্ষস্থান হারানো টটেনহামকে আগের ম্যাচে হারিয়েছে রেডস। আর এই বিধ্বংসী জয় ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষস্থান সংহত করলো তাদের।
স্কোরশিটে নাম তুলেছেন ফিরমিনো, সালাহ, তাকুমি মিনামিনো, সাদিও মানে ও জর্ডান হেন্ডারসন। ফিরমিনো ও সালাহ করেছেন জোড়া গোল। তিন মিনিটেই লিভারপুল গোলের দেখা পেয়ে যায় মানের সাজিয়ে দেওয়া বলে মিনামিনো ঠান্ডা মাথায় জালে বল ঠেলে দিলে। সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ৩৫ মিনিটে নিজেই গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেছেন। বিরতির কেবলেই আগে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ পরিণতি পায় ফিরমিনোর গোলে।
বিরতির পর পরই হেন্ডারসনের বাঁকানো শট জাল খুঁজে পেলে লিভারপুল এগিয়ে যায় ৪-০ গোলে। খানিক পরই সালাহর সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল পান ফিরমিনো। ম্যাচের পরের অংশটুকু সালাহর আলোয় উজ্জ্বল। ৮১ মিনিটে হেডে প্রথম গোল করেন সালাহ। মিসরীয় ফরোয়ার্ড মিনিট তিনেক পর দলের সপ্তম আর নিজের দ্বিতীয় গোল করেছেন প্রায় একক নৈপুণ্যে।
১৯৯১ সালে ডার্বি কাউন্টির মাঠে সাত গোল করেছিলে লিভারপুল। সেই কীর্তির ২৯ বছর পর আবার তারা প্রতিপক্ষের মাঠে পেলো সাত গোল। আর এতে নিশ্চিত হলো টানা তৃতীয় মৌসুম শীর্ষে থেকেই তারা যাচ্ছে বড়দিনের ছুটিতে।
ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ কোচের পুরস্কার পাওয়ার দুদিন পর মাঠে একটা বড় চমকই দিয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। সালাহকে বসিয়ে একাদশে প্রথম সুযোগ দেন মিনামিনোকে। জাপানি মিডফিল্ডার কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগে তার প্রথম গোল করে। ৫৭ মিনিটে মানের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সালাহ। মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার আগে মানে করেছেন দুই গোল, বদলি নেমে সালাহও করেছেন জোড়া গোল।
ওদিকে ১৬ মিনিটে রাহিম স্টার্লিংয়ের দেওয়া গোলে সাউদাম্পটনের মাঠে গিয়ে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যানচেস্টারের দুই ক্লাবেরই হাতে সমান ২৩ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে ষষ্ঠ স্থানে সিটি, আর সাতে ইউনাইটেড। আবারও হেরে ১৫ নম্বরে নেমে গেছে দুর্ভাগা আর্সেনাল। এভারটন নিজের মাঠে গানারদের ২-১ গোলে হারিয়ে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে।








