রাত পোহালেই মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রতিপক্ষ আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া।
এদিকে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে রাজধানীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিওনেল স্কালোনির দলকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর শাহবাগ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এ সময় সমর্থকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও।
শাহবাগে সরেজমিন দেখা যায়, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। আকাশি-সাদা জার্সি ও আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে শত শত সমর্থক নেচে-গেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। শোভাযাত্রার সামনে সারিবদ্ধভাবে চলছিল মোটরসাইকেল বহর, এর পেছনে ছিল সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি। যেগুলোতে উড়ছিল আর্জেন্টিনার পতাকা। ভুভুজেলার তীব্র শব্দ, ব্যান্ড পার্টির সুর এবং ঢোল-তবলার তালে তালে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনেককে মেসির জার্সি পরে স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিভিন্ন বয়সী সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন দুই বন্ধু সাউদ হোসেন শান্ত ও মো. ইয়াসিন। তারা বলেন, আয়োজক আমাদের পরিচিত বড় ভাই। তার পরিকল্পনার কথা শুনে স্বউদ্যোগে ঢাকায় এসেছি। আমরা আশা করছি কাল আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জিতবে। এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
শাহবাগে বাদাম বিক্রি করতে আসা মো. ইমন মিয়া বলেন, শাহবাগ দিয়ে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার মিছিল দেখে এখানে দাঁড়িয়ে যাই। কারণ যেখানে আর্জেন্টিনা, সেখানে আমি। তিনি আরও বলেন, এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতবে, মেসির হাতে আবারও ট্রফি উঠবে।
এই উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়ক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল বলেন, বাংলাদেশে ফুটবল মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিছু সময় ভাটা পড়লেও এখন আবার সেই উন্মাদনা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, দেশের সমর্থকদের বড় অংশ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, আর সেই ভালোবাসা থেকেই এই র্যালির আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনা বর্তমানে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সমর্থকদের প্রত্যাশা দলটি আবারও শিরোপা জিতবে। শোভাযাত্রাটি রবীন্দ্র সরোবর পর্যন্ত গিয়ে আতশবাজির মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।








