ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে জয় পেয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বুধবার ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ভিক্টোরিয়াকে ২ উইকেটে হারিয়েছে রূপগঞ্জ। এই জয়ে ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো সৌম্য-মিঠুনদের লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
মূলত ভারতীয় ক্রিকেটার পবন নেগির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ। বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৮৯ বলে ১২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ভারতীয় এই ক্রিকেটার।
এদিন টসে হেরে আগে ব্যাটিং করা ভিক্টোরিয়া নির্ধারিত ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেন। ৪৩ রানে ভিক্টোরিয়ার ওপেনিং জুটি ভাঙ্গলেও মিডল অর্ডার দুই ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক সৌরভ ও আল আমিন জুনিয়র বেশ সাবলীল ছিলেন। তার আগে অবশ্য ওপেনার ফজলে মাহমুদের সঙ্গে মুমিনুল হক সৌরভ দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েন। ৭৬ বলে ৪০ রান করে ফজলে মাহমুদ ফিরে গেলে ক্রিজে নামেন আল আমিন জুনিয়র।
চতুর্থ উইকেটে এই দুইজন মিলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন। মুমিনুল ৮২ রান করে ভারতীয় ক্রিকেটার পবন নেগির বলে সাজদুলকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। তার আগে পুরো মাঠে দারুণ সব শট খেলে ৭২ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ে তিনি তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
এরপর আল আমিন ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাইজুলের বলটি ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। তার আগে ৬৮ বলে ৬৩ রান করে চলতি আসরের ৬ষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন আল আমিন জুনিয়র। তার ফিরে যাওয়ার পর পরই ভিক্টোরিয়ার ইনিংসে সেখানেই থমকে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৫৮ রান করতে সমর্থ হয় ভিক্টোরিয়া। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। এছাড়া আবু হায়দার ও পবন নেগি দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
২৫৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৭ বল হাতে রেখে দুই উইকেটে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রূপগঞ্জ। যদিও দলীয় ১৮ রানেই ভেঙ্গে পড়ে ওপেনিং জুটি। রূপগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। কিন্তু সেই চাপ সামাল দেন রূপগঞ্জের বিদেশি ক্রিকেটার পবন নেগি।
মোশরফ হোসেনকে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ১৪৮ রান করেন। মূলত ওখানেই ম্যাচটি বের করে নেয় রূপগঞ্জ। মোশারফ হোসেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে সাজঘরে ফিরে গেলে কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়। কিন্তু রূপগঞ্জের ত্রাতার ভূমিকায় থাকায় নেগি চতুরাঙ্গা ডি সিলভার বলে ডিপ স্কয়ার লেগে বিশাল ছক্কা মেরে জয় সূচক রানটি তুলে নেন। সবমিলিয়ে ৮৯ বলে ১৩ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পুরো ইনিংসে একটিমাত্র জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৯৭ রানে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন আইপিএলের গত আসরের সবচেয়ে দামি এই ক্রিকেটার।
ভিক্টোরিয়ার বোলারদের মধ্যে চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া কামরুল ইসলাম রাব্বি, আল আমিন ও সোহরাওয়ার্দী শুভ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
/আরআই/এমআর/







