আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত চারটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুটি হার ও দুটি জয়ের মাঝে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে সমস্যাটি ব্যাপকভাবে ক্রিকেটপ্রেমিদের নজরে পড়েছে, তা হলো বাংলাদেশ ‘টেলএন্ডার’ বা ‘লোয়ার অর্ডারের’ ব্যর্থতা। এই সমস্যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে থাকলেও কোনও রকমে পার পেয়ে যায় বাংলাদেশ, কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ডের মতো পেশাদারি দল, তখন আগামী দুটি ম্যাচের আগে এটি একটি বড় মাথাব্যথার কারণ।
শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় লোয়ার অর্ডারের অসহায় আত্মসমর্পনে। স্কোর বোর্ডের চিত্রটা ছিল এ রকম-মোসাদ্দেক হোসেন ০, মাশরাফি ১, মোশাররফ রুবেল ৭*, শফিউল ০ ও তাসকিন ১। মানে শেষ পাঁচ ব্যাটসম্যনের অবদান মাত্র ৯ রান।
সাধারণত লোয়ার অর্ডার যেভাবে দলকে সেবা দেয়, তা হলো-১. তারা সেট ব্যাটসম্যনকে এক প্রান্ত আগলে রেখে সহায়তা করে, ২. তারা সিঙ্গলস নিয়ে রানের চাকা সচল রাখে, ৩. সাধারণত পেসাররা বিগ হিট দিয়ে রানের চাকায় আনে বাড়তি গতি, ৪. ম্যাচের পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে দলের আশার তরীটা ভাসিয়ে রাখে। বলাই বাহুল্য গত চারটি ম্যাচের এর একটিতেও বাংলাদেশ তার ’লেজ’ থেকে এ সেবাটা পায়নি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে শেষ চার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক, মোশাররফ রুবেল, মাশরাফি ও শফিউল করেছেন যথাক্রমে ৪, ৪, ২, ২; সব মিলিয়ে মাত্র ১২ রান! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাশরাফি, তাইজুল, তাসকিন ও রুবেল হোসেন করেছেন যথাক্রমে ২, ১০, ০, ১০; মোট ২২ রান। প্রথম ওয়ানডেতে একই লাইনআপে ৪, ১১, ২, ১; সব মিলিয়ে ১৮। একদিনের ম্যাচে বল প্রতি রানের হিসাবটাও গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ব্যাটসম্যানদের কেউই স্ট্রাইকিং রেট সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখতে পারেননি। মোশাররফ রুবেল আফগনিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১৯ বলে ৪ আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবার ২৪ বলে করেন ৭ রান।
আরেকটি প্রশ্ন চায়ের কাপের আড্ডায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে, আর সেটি হলো নাসির হোসেনকে কেন বারবার রাখা হচ্ছে একাদশের বাইরে। নাসির কিছুদিন আগেও ছিলেন দলের ‘গ্রেট ফিনিশার’। তিনি দলের সেরা ফিল্ডার হওয়ায় বদলি হিসেবে প্রায় সব ম্যাচেই মাঠে নামছেন, তা ছাড়া তার স্পিনটাও পরিক্ষিত। নাসিরের অন্তর্ভূক্তিতে সমস্যা সমাধান হবে, এটি বলা যাবে না। তবে তাকে না নিয়েও যে সমস্যা সমাধান হচ্ছে না, সেটি তো দিবালোকের মতো সত্য!
/আরএম/কেআর/








