অবশেষে হেসেছে মুশফিকের ব্যাট। তার ব্যাটে রান আসা মানেই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর। মাশরাফি গত কয়েকদিন ধরেই বলছিলেন, মুশফিক ঠিক সময়েই জ্বলে উঠবে। শেষ অবধি মাশরাফির কথাই সত্যি হলো, মুশফিক ঠিক সময়েই জ্বলে উঠলেন। বুধবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়তে থাকে তখনই একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন মুশফিক। খেলেছেন অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস। যার মধ্য দিয়ে ৭ ইনিংস পর মুশফিক পেলেন হাফসেঞ্চুরি। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিক সেঞ্চুরি (১০৭) পেয়েছিলেন।
বুধবার মুশফিক, সাব্বির ও মোসাদ্দেকের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে পঞ্চম উইকেটে ক্রিজে নামেন মুশফিক। প্রথমে সাব্বিরের সঙ্গে ৫৪ রান এবং সপ্তম উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৫ রানের জুটি গড়েন।
মুশফিক শুরুর দিকে নিজেকে খোলসবন্দী করে রাখলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। মঈন আলীকে মিড উইকেট দিয়ে চার হাঁকিয়ে খোলস ছাড়েন মুশফিক। যদিও ৪৪ রানে স্টোকসের কল্যানে নতুন জীবন পান। নতুন জীবন পেয়েই আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠেন এই টেস্ট অধিনায়ক। ক্রিস ওকসের ল্যান্থ বলটি ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে তার ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকান মুশফিক। আর তাতেই পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ২৩তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি। ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই তিনি বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে চার হাজারি ক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন। মুশফিকের বর্তমান রান ১৬৪ ম্যাচে ৪০৭৬; ৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ২৩টি হাফসেঞ্চুরি।
যদিও গত কিছুদিন ধরেই সমালোচনার স্বীকার হচ্ছিলেন তিনি। বিশেষ করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১ রানে হারের পর থেকেই নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছিলেন। অনেকেই মনে করছেন এর প্রভাব তার ব্যাটিং ও কিপিংয়ে পড়েছে! অবশ্য ওই সময়ের পর থেকে বাংলাদেশ একটি মাত্র আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে। ওই সিরিজে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার হাত থেকে বল ছুটে গেছে। সবমিলিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন মি. ডিপেন্ডেবল।
২০১৫ সালে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট দুর্দান্ত খেললেও টি-টোয়েন্টিতে ততটা উজ্জল ছিলেন না তিনি। যার কারণে চলতি বছর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স আসেনি তার ব্যাট থেকে।
তারপরও মুশফিক ভক্তরা প্রত্যাশায় ছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করবেন মি. ডিপেন্ডেবল। কিন্তু সেখানেও পারেননি। আফগানিস্তান সিরিজের ব্যর্থতা টেনে এনেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচেও। শেষ পর্যন্ত এসে রানে ফেরার আভাষ দিলেন। মুশফিকের প্রিয় শট স্লগ সুইপ খেলতে গিয়েই গত চার ম্যাচের তিনটিতে আউট হয়েছিলেন।
তাইতো বুধবার আদিল রশিদকে খেলতে গেয় বেশ সতর্ক ছিলেন তিনি। দুই-একটি স্লগ সুইপ খেললেও সেখানে ছিল তার সতর্ক চোখ।
মুশফিকের জন্য অবশ্য রানে ফেরাটা জরুরি ছিল। কেননা আগামী ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সাদা পোষাকের অধিনায়ক মুশফিককেতো সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে হবে!
/আরআই/এফআইআর/








