হারলেই বিদায়, এমন সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। চাপটা সম্ভবত নিতে পারে নি ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা করে তুলেছে কঠিন। তবু যে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো স্কোর গড়তে পেরেছে, তার পুরো কৃতিত্ব পাবেন ট্র্যাভিস হেড। এই ব্যাটসম্যানের হার না মানা হাফসেঞ্চুরিতে ৫০ ওভার শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২৭৭ রানে।
ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে রীতিমত কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা নিয়েছেন আদিল রশিদ। তার দুই ওভারের ভেল্কিতে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার। একই ওভারে তিনি ফিরিয়েছেন ম্যাথু ওয়েড (২) ও মিচেল স্টার্ককে (০)। তার আগে ও পরে ময়েসেস হেনরিকস (১৭) ও প্যাট কামিন্সকে (৪) ফিরিয়ে ইংলিশ স্পিনার নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন ৪ উইকেট।
শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ ধীরগতিতে শুরু করলেও মোটামুটি শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ৪০ রান যোগ করে। ফিঞ্চ তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম হাফসেঞ্চুরি। যোগ্য সঙ্গ পেয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের কাছ থেকে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৯৬ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে চার হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছানো ওয়ার্নার গ্রুপের শেষ ম্যাচে ২১ রানে আউট হয়েছেন। মার্ক উডের বলে উইকেটের পেছনে জস বাটলারকে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ওয়ার্নারের বিদায়ের পর ফিঞ্চের সঙ্গে জুটি বাঁধেন স্মিথ। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু স্টোকসকে তুলে মারতে গিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগানের হাতে ধরা পড়েন ফিঞ্চ। তার ৬৪ বলে খেলা ৬৮ রানের ইনিংস সাজানো ৮টি চারে।
ফিঞ্চ আর স্মিথের ৯৬ রানের জুটি ভেঙে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারে নি অস্ট্রেলিয়া। ১৯ রান করা ময়েসেস হেনরিকসকে বিদায় করেন আদিল রশিদ। ২০ রান যোগ হওয়ার পর অস্ট্রেলীয়দের জন্য আরও বড় ধাক্কা, এবার স্মিথের বিদায়। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ককে ফিরিয়ে দেন মার্ক উড। হেনরিকসের মতো স্মিথের ক্যাচও নিয়েছেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। স্মিথের ৫৬ রানের ইনিংস সাজানো ৫টি চারে।
অধিনায়কের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হেড। যদিও ‘দুর্ভাগা’ ম্যক্সওয়েলকে ফিরতে হয়েছে জেসন রয়ের দুর্দান্ত এক ক্যাচে। মিডউইকেটে সীমানার উপর থেকে অনেকটা লাফিয়ে বল তালুবন্দি করেন রয়, ভারসাম্য রাখতে না পেরে চলে গিয়েছিলেন সীমানার ওপারে। তবে বল শূন্যে ছুড়ে আবার মাঠের ভেতর থেকে করেন তালুবন্দি। ২০ রানে ফেরা ম্যাক্সওয়েলের আউটের পরই রশিদের আঘাতে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন। সেখান থেকে একা হাতে লড়াই চালিয়ে গেছেন হেড। শেষ পর্যন্ত তিনি ৬৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ৭১ রানে।
যদিও বাংলাদেশ ম্যাচটা খেলছে না, তবু অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। হারলেই অস্ট্রেলিয়া বিদায় নেবে, আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে চলে যাবে টাইগাররা। বার্মিংহামের এজবাস্টনে বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে ইংল্যান্ড।
অস্ট্রেলিয়া জয় না পেলেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলবে। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট পাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে শেষ চারে উঠতে হলে জিততেই হবে। দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
এ ম্যাচকে অ্যাশেজের ওয়ানডে সংস্করণ হিসেবে দেখছেন মরগান। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারের স্বাদ দিতে চান।
/এফএইচএম/এএআর/কেআর/








