বড় স্বপ্ন নিয়ে শুক্রবার দুপুরে তাজিকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল। ৩১ অক্টোবর স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাই পর্বের মিশন। তাজিকিস্তানে স্বপ্ন পূরণ হলে ২০১৮ সালে মূল পর্বে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ। এই মিশন জয়ের জন্য মরিয়া সবাই। অন্তত ঢাকা ছাড়ার আগে তেমনটাই শুনিয়ে গেছেন জাফর ইকবাল ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
মাহবুব হোসেনর রক্সির দলের এই দুজন ফরোয়ার্ডের কাছে প্রত্যাশা একটু বেশিই। জাফর ও ফাহিম- দুজনই সাফের আসরে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে ৫ গোল করেছেন জাফর, আর ফাহিম নেপালে অনূর্ধ্ব-১৫ আসরে করেছেন ৭ গোল। দুজনেরই চাওয়া এএফসির আসরে সাফের পারফরম্যান্স ধরে রাখার। জাফর যেমন বলেছেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-১৮-তে ভুটানে ভলো করেছি। অবশ্যই এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তাজিকিস্তান যাচ্ছি। দল যেন বাছাই পর্ব পেরোতে পারে, সেদিকে নজর থাকবে। সবাই ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।’
জাফর কিন্তু জাতীয় দলেও খেলেছেন। টম সেইন্টফিটের অধীনে ২০১৬ সালে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে ছিলেন তিনি। অ্যান্ড্রু ওর্ডের অধীনে ফিলিস্তিনে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলের বাছাই পর্বে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে তার। বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দলের হয়ে কয়েকটি আসরে খেলে এই ফরোয়ার্ড বেশ আত্মবিশ্বাসী, ‘তাজিকিস্তান যাওয়ার আগে আমরা অনুশীলন খারাপ করিনি। এখন মাঠে সেরাটা দেয়ার অপেক্ষা। সবাই আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি, আত্মবিশ্বাসী বলতে পারেন। প্রথম ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ভালো ফল হলেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সুবিধা হবে।’
নিজেদের সেরাটা দেওয়ার কথাও জানিয়ে রাখলেন তিনি, ‘স্বাগতিকদের বিপক্ষে নিজেদের উজাড় করে খেলা ছাড়া বিকল্প নেই। ভুটানের আসরের মতো তাজিকিস্তানেও সেরা স্কোরার হওয়ার লক্ষ্য আছে। তবে আগে নিজের দল যেন বাছাই পর্ব উতরাতে পারে, সেটাই প্রথম লক্ষ্য।’
বয়সভিত্তিক দল কিংবা জাতীয় দলে জাফর নিয়মিত হলেও ঘরোয়া ফুটবলে চট্টগ্রাম আবাহনীর একাদশে দেখা যায় কমই। কারণ ব্যাখ্যায় এই ফরোয়ার্ডের বক্তব্য, ‘এটা কোচ ভালো বলতে পারবেন। আমি তো চাই খেলতে। হয়তো আমার জায়গায় ভালো খেলোয়াড় আছে, বিদেশিরা আছে। সে কারণে হয়তো সুযোগ হয় না। তবে মাঠে যখন নামি, সেরাটা দেয়ার জন্যই খেলি।’
ঘরোয়া ফুটবলে যা-ই হোক না কেন, জাফর কিন্তু লাল-সবুজের জার্সিতে পারফরম করে যাচ্ছেন নিয়মিত। তার সঙ্গে এবার জুটি বাধতে যাচ্ছেন অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে ১৯ দলে জায়গা করে নেওয়া ফাহিম। তার সম্পর্কে জাফরের মূল্যায়ন, ‘আমাদের জুটি ভালো জমবে। ফরোয়ার্ড জোনে দুজনের থাকার সম্ভাবনা আছে। যদিও একাদশ ঠিক করবেন কোচ। তবে ফাহিম ভালো খেলোয়াড়। অন্য যারা আছেন, তারাও খারাপ নয়; সুফিল-বিপলুরাও পরীক্ষিত।’
জাফর যখন কথাগুলো বলছিলেন, পাশেই ছিলেন ফাহিম। সিরাজগঞ্জের এই তরুণ বললেন, ‘নেপালে ৭ গোল করেছি। হ্যাটট্টিকও হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। তাজিকিস্তানে ভালো খেলে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।’
জাফর-ফাহিম জুটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী কোচ মাহবুব, ‘দুজনের রসায়ন ভালো হবে। তাজিকিস্তানে এদের কাছে দলের প্রত্যাশা বেশি থাকবে। দুজনই নিজেদের আগের আসরগুলোতে প্রমাণ করেছে। এখন তাজিকিস্তানে ভালো করতে পারলেই হয়। আশা করছি তাদের কাছ থেকে সেরাটা পাবো।’








