অ্যাশেজে যখন ইংল্যান্ড অতিথি, তখন অস্ট্রেলিয়া বারবার তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে চার বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি। কথা দিয়ে বেশ ভালোভাবে ইংলিশদের ঘায়েল করেছে অসিরা, কিন্তু পারেনি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। বৃষ্টিতে ঘণ্টাখানেক পর শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম দিনের স্কোর বলছে সেটাই। ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে প্রথমবার নেমে ইংলিশ ওপেনার মার্ক স্টোনম্যান ও জেমস ভিন্সের মধ্যে চাপের ছিটেফোটা দেখা যায়নি। দুজনের হাফসেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবারের খেলা শেষ করেছে ৪ উইকেটে ১৯৬ রানে।
২০১৩ সালে মিচেল জনসনের তোপে পড়ে ৫-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরেছিল ইংল্যান্ড। এবার নেই ওই সিরিজের ৩৭ উইকেটশিকারি। তার ছায়া এবার মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছিলেন অনেকে। কিন্তু পেস আক্রমণের এই দুই তারকা তেমন কিছু করে দেখাতে পারলেন না উদ্বোধনী দিনে। যদিও ইংলিশদের চার উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন তারা।
ব্রিসবেনের গ্যাবায় টস জিতে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডের শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে ওপেনার অ্যালিস্টার কুককে হারায় তারা। তাকে ২ রানে পিটার হ্যান্ডসকম্বের ক্যাচ বানিয়ে স্বাগতিকদের উচ্ছ্বাসে মাতান স্টার্ক। ফিরে আসছিল যেন চার বছর আগের স্মৃতি।
কিন্তু সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তি হলো না স্টোনম্যান ও ভিন্সের জুটিতে। কেবল চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা স্টোনম্যানকে নিয়ে একশ ছাড়ানো জুটি গড়লেন ভিন্স, যার সর্বশেষ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা এক বছরেরও বেশি আগে। ২ রানে প্রথম উইকেট হারানো সফরকারীদের স্কোর তারাই ১০০’র উপরে নিলেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পাওয়া স্টোনম্যানকে (৫৩) কামিন্স বোল্ড করলে ভাঙে ১২৫ রানের জুটি।
১০৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পাওয়া ভিন্স সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু কভার থেকে নাথান লিওনের থ্রোতে তিনি রানআউট হলে সেটা ভেঙে যায়। ১৭০ বলে ১২ চারে ৮৩ রান করেন ২৬ বছরের এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
জো রুট মাঠে নেমে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। কামিন্সের জোরালো এলবিডাব্লিউ আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও ইংলিশ অধিনায়ককে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের সফল রিভিউয়ে। ১৫ রান করেন রুট।
এরপর ডেভিড মালান ও মঈন আলীর ৩৩ রানের অপরাজিত জুটিতে দিন শেষ করে ইংল্যান্ড। মালান ২৮ ও মঈন ১৩ রানে খেলছিলেন।
দুই উইকেট নিয়ে প্রথম দিনের সফল বোলার কামিন্স।








