কয়েক মৌসুম ধরে তীব্র গরম বা বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গড়াচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। যে কারণে যথাসময়ে লিগ শেষ করতে পারছে না ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটনের (সিসিডিএম)। অন্যদিকে ক্রিকেটারদের সমস্যায় ফেলছে প্রচণ্ড গরম। গত মৌসুমে তো কয়েকজনকে হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল। এই সমস্যার সমাধান চায় সিসিডিএম কর্তৃপক্ষ। সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ জানিয়েছেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আগামী আসর হতে পারে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মতবিনিময় সভা শেষে সিসিডিএম চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টি আর রোজার মধ্যে হচ্ছে। অনেক ক্লাবই আমাদের এ বিষয়ে বলেছে। আমরাও ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ২ বা ৩ জানুয়ারি আমরা ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবো। আমরা প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ফিরিয়ে আনতে চাই। এবার জানুয়ারির ২০ তারিখে লিগ শুরুর চেষ্টা করবো। তার ৮-১০ দিন আগে প্লেয়ার্স বাই চয়েজ ড্রাফট হবে।’
আগের আসরগুলোর মতো এবারও ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’-এর মাধ্যমে খেলোয়াড় সংগ্রহ করতে পারবে দলগুলো, আগের চারজন খেলোয়াড়ও ধরে রাখতে পারবে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তাই এবার তাদের ছাড়াই হতে পারে লিগ।
জাতীয় দলের বাইরে থাকা বেশিরভাগ ক্রিকেটারের রুটি-রুজির উৎস ঢাকা লিগ। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’-এর কারণে সেই সব খেলোয়াড় যথার্থ সম্মানী থেকে বঞ্চিত হন।
সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদের এটা জানা। তিনি বললেন, ‘ক্লাবগুলোকে টিকে থাকতে অনেক লড়াই করতে হয়। তাদের স্বার্থে প্লেয়ার্স বাই চয়েজের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। তবে ক্রিকেটাররাও আমাদের ভাবনায় আছে। কারণ ঢাকা লিগ অনেক ক্রিকেটারের আয়ের মূল উৎস। আমরা গ্রেডিং অনুযায়ী পারিশ্রমিক ঠিক করতে জাতীয় নির্বাচকদের অনুরোধ করেছি। গত মৌসুমে কে কেমন টাকা পেয়েছিল সে বিষয়ে আমাদের ধারণা আছে। সেটা বিবেচনা করেই এবার গ্রেডিং করা হবে।’
ঢাকা লিগের আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন অনেক দিনের। আগামী লিগে ভালো আম্পায়ারিং নিয়ে আশাবাদী কাজী ইনাম আহমেদ, ‘এ বিষয়ে আম্পায়ারিং কমিটির নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ভালো আম্পায়ারিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো করার চেষ্টা থাকবে।’
ঢাকা লিগ জনপ্রিয়তা পেলে শুধু বিসিবি নয়, ক্লাবগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। সেই লক্ষ্যে এবার কিছু ম্যাচ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হতে পারে। সিসিডিএম চেয়ারম্যান জানালেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে দর্শক ফিরিয়ে আনা। আমরা টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা করতে পারলে হয়তো দর্শক আসবে। তবে মূল লক্ষ্য অবশ্যই প্রিমিয়ার লিগ, যেটি ওয়ানডে সংস্করণে হয়। সুপার লিগের খেলাগুলো টিভিতে সম্প্রচার করতে পারলে সবাই উৎসাহিত হবে। লিগ জনপ্রিয় হলেই কিন্তু মাঠে দর্শক আসা বাড়বে, মার্কেটিং করতে বা স্পন্সর পেতে সুবিধা হবে। জৌলুস ফিরিয়ে আনতে পারলে শুধু লিগ নয়, ক্লাবগুলোও স্পন্সর পাবে।’








