ভারতে স্পিনারদের কাছে নতজানু হয়ে বাংলাদেশে পা রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশেও স্পিন বিষে নীল তারা। চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের টার্নিং উইকেট তাদের ভুগিয়েছে। তবে এই উইকেটে ভীত হয়েই ব্যাটিং লাইনআপের ভরাডুবি মনে করেন না অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট।
প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসান ও সাকিব আল হাসানের স্পিনে চূর্ণবিচূর্ণ হলেও শেন ডাউরিচ ও শিমরন হেটমায়ারের হাফসেঞ্চুরিতে ২৪৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর শেষ ইনিংসে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে নাজেহাল হয়েছে তাদের ব্যাটসম্যানরা। চট্টগ্রামের টার্নিং উইকেটের পুরোটা সুফল পেয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। তবে এমন উইকেট দেখে ভয় পায়নি কেউই জানালেন ব্র্যাথওয়েট, ‘না, কোনও ভয় ছিল না (টার্নিং উইকেট নিয়ে)। এখানে ধৈর্য্য ধরে খেলতে পারলে ভালো করা সম্ভব ছিল। এই উইকেটে শুরুতে খেলতে কিছুটা সমস্যা হলেও বল নরম হয়ে গেলে খেলতে তেমন সমস্যা হয় না।’
দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও সুনীল আমব্রিস, হেটমায়ার ও জোমেল ওয়ারিকান ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৪২ বলে হাফসেঞ্চুরি করা হেটমায়ার তো দ্বিতীয় ইনিংসেও করলেন ১৯ বলে ২৭। অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মধ্যে এমন আগ্রাসী ব্যাটিং নিয়ে উইন্ডিজ অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ‘হেটমায়ার আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। কিন্তু আমাদের কখনও কখনও ভালোভাবে প্রতিহত করতে হতো। অবশ্যই তার আক্রমণ ভালো ছিল। প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের আলাদা আলাদা গেম প্ল্যান থাকে। সে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে।’
তিনদিনেই ম্যাচ হারের পেছনে ব্র্যাথওয়েট ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেই দুষলেন, ‘আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমরা বড় কোনও জুটি গড়তে পারিনি। দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমরা শুরুতে ও মাঝে বড় কোনও জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছি। এটাই আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে দায়টা ব্যাটসম্যানদেরই নিতে হবে।’
সাকিব দুই ইনিংসেই শুরুতে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন উইকেট নিয়ে। তার এই সাফল্য প্রশংসিত হলো প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েটের কণ্ঠে, ‘সে খুব অভিজ্ঞ বোলার, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো নিয়েছে। তাদের ম্যাচ জয়ে যেটা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।’
শৃঙ্খলাভঙ্গে মিরপুর টেস্ট খেলতে পারবেন না ক্যারিবিয়ান পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। তাকে দলে না পাওয়া বড় ধাক্কা মানছেন অধিনায়ক, ‘অবশ্যই সে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার। তার না থাকা হয়তো কিছুটা হলেও সমস্যায় ফেলবে আমাদের। তারপরও আমাদের নতুন পরিকল্পনা থাকতে হবে।’
ঢাকা টেস্টে ভালো করতে আশাবাদী ক্যারিবিয়ান এই ওপেনার, ‘আমাদের ভালো শুরু এনে দিতে হবে। আমাদের বড় সংগ্রহ গড়তে হবে। আশা করি ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’








