তৃতীয় দফায় টানা পরপর দুই বলে উইকেট হারালো বাংলাদেশ। জসপ্রীৎ বুমরাহ ও যুজবেন্দ্র চাহালের পর এই সাফল্য ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদবের। তিনি আক্ষেপে পুড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিমকে। সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে বোল্ড হয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন হন স্টাম্পিং। ফিরে গেছেন সাব্বির রহমানও। ৩৬০ রানের লক্ষ্যে ৪১ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৭ রান করেছে বাংলাদেশ।
ভালো শুরুর পর জসপ্রীৎ বুমরাহর কাছে পরপর দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম প্রতিরোধ গড়লেও চাহালের জোড়া আঘাতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। সবশেষ তাতে যোগ দেন কুলদীপ।
তামিম ইকবালকে বিশ্রামে রাখায় ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্ততি ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে খেলেছেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। বেশ সতর্ক ব্যাটিং করছিলেন তারা। কিন্তু ভালো শুরুর পর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বুমরাহর জোড়া আঘাতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এই ধাক্কা তারা কাটিয়ে ওঠে লিটন ও মুশফিকের হাফসেঞ্চুরিতে। কিন্তু যুজবেন্দ্র চাহাল পরপর লিটন ও মোহাম্মদ মিঠুনকে সাজঘরে পাঠালেন। কিছুক্ষণ পর কুলদীপ যাদবের কাছে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ। তার ১২ বলের ইনিংসে ছিল একটি চার।
ভারতের এই স্পিনার তার অষ্টম ওভারে মুশফিককে ৯০ রানে বোল্ড করেন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান ৯৪ বলে ৮ চার ও ২ ছয় মারেন। মোসাদ্দেক পরের বলে ডাক মারেন। পরের ওভারে রবীন্দ্র জাদেজা ৭ রানে সাব্বির রহমানকে বোল্ড করেন।
শুরুতে বুমরাহ ও মোহাম্মদ সামির স্পেলে দেখেশুনে খেলছিলেন লিটন ও সৌম্য। কিন্তু দশম ওভারের চতুর্থ বলে বুমরাহর বল সৌম্যর ব্যাটের কানায় লেগে দিনেশ কার্তিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে। ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২৫ রান করেন তিনি, ভাঙে ৪৯ রানের জুটি। পরের বলেই সাকিব আল হাসানকে বোল্ড করেন ভারতীয় পেসার।
এই জোড়া ধাক্কা বাংলাদেশ কাটিয়ে ওঠে মুশফিক ও লিটনের জুটিতে। একশ ছাড়ানো জুটি গড়ার পথে ২৪তম ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালকে বাউন্ডারি মেরে হাফসেঞ্চুরি করেন লিটন। চার ওভার পর মুশফিকও পান ফিফটির দেখা, ৫৮ বল খেলে। ১২০ রানের এই জুটি ভাঙে লিটন ৭৩ রানে স্টাম্পিং হলে। ৯০ বলের ইনিংসে ১০টি চার মারেন বাংলাদেশি ওপেনার। পরের বলে মিঠুন রানের খাতা না খুলে এলবিডাব্লিউ হন।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। ১০২ রানে ভারতের ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু লোকেশ রাহুল ও মহেন্দ্র সিং ধোনির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে ৩৬০ রানের টার্গেট দিয়েছে ভারত। ৭ উইকেটে তারা করেছে ৩৫৯ রান।
রুবেল হোসেন দুটি উইকেট নিয়ে দারুণ শুরুর আভাস দেন। কিন্তু ধোনি ও রাহুলের ১৬৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সাব্বির রহমানের ব্রেক থ্রুয়ে ভাঙে এই জুটি। ৯৯ বলে ১২ চার ও ৪ ছয়ে ১০৮ রানে তার শিকার হন রাহুল।
৭৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছয়ে ১১৩ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে সাকিব আল হাসানের কাছে উইকেট হারান ধোনি।
বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন সাকিব ও রুবেল। একটি করে পান সাইফউদ্দিন, সাব্বির ও মোস্তাফিজুর রহমান।








