‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’—মোস্তাফিজুর রহমান যেন এই প্রবাদেরই সমার্থক। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার রাজসিক আবির্ভাব। ওয়ানডে সিরিজে ১৩ উইকেট শিকার করে ভারত বধে নেতৃত্ব দেওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে কাটার-ইয়র্কার-স্লোয়ারের জাদুতে ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত নাস্তানাবুদ করা মোস্তাফিজ ইদানীং নিষ্প্রভ। ভারত সফরে ব্যর্থতার পর বিপিএলেও নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন ‘কাটার মাস্টার’।
গত মাসের ভারত সফর যেন একটা দুঃস্বপ্ন ছিল মোস্তাফিজের কাছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচই খেলেছেন, কিন্তু দাগ কাটতে পারেননি একটিতেও। ৯.৪ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন ৯২, ইকোনমি ৯.৫১, উইকেটের ঘরে শুধুই শূন্যতা। এর চেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স আর কী হতে পারে!
ভারত সফরের হতাশা দূর করতে তাকিয়েছিলেন বিপিএলের দিকে। কিন্তু রংপুর রেঞ্জার্সের জার্সিতেও সাফল্য ধরা দিচ্ছে কোথায়! রান দিচ্ছেন অকাতরে, আর বিপদে পড়ছে দল।
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুই উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ৩৭। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সঙ্গে পরের ম্যাচে তো উইকেটই পাননি। রানও যদিও বেশি দেননি, ৩.২ ওভারে ২১। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে আবার ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডব তার বলে। এবার ৪ ওভারে ৩৫ রানের বিনিময়ে শিকার মাত্র একটি উইকেট। আজ খুলনা টাইগার্সের সঙ্গেও ভক্তদের হতাশ করলেন মোস্তাফিজ। ইনিংসের শুরুতে নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দিলেও ২ ওভারে তার খরচ ১৮ রান। বিপিএলে ৪ ম্যাচে ৪ উইকেট আর ৮.৩২ ইকোনমি নিয়ে অনুজ্জ্বল তিনি। কাটার মাস্টারের কাটার যেন ভোঁতা হয়ে গেছে!
মোস্তাফিজের এমন ব্যর্থতা ছায়া ফেলেছে দলের পারফরম্যান্সেও। চার ম্যাচেই হেরে রংপুর এখন পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে। চার ম্যাচ হারলেও রংপুরের চেয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে সিলেট থান্ডার।
মাঠের ভেতরের মতো বাইরে থেকেও সুখবর পাচ্ছেন না তিনি। আইপিএলের নিলামে থেকে গেছেন অবিক্রীত। এক কোটি ভিত্তিমূল্যের মোস্তাফিজকে নিতে আগ্রহ দেখায়নি কোনও দল। আইপিএলে নেই, বিপিএলেও বিবর্ণ—বাঁহাতি পেসার হতাশার বৃত্তেই বন্দি।








