জিম্বাবুয়েতে কখনোই টেস্ট সিরিজ জিততে না পারা বাংলাদেশ এবার নেমেছে ভিন্ন এক মিশনে। ২০১৩ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে একটি ম্যাচ জিতলেও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল তামিম-সাকিবরা। ৮ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে আরেকটি টেস্ট খেলতে যাচ্ছে মুমিনুল বাহিনী। আজ বুধবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটি গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করবে।
অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামার আগে অনেকগুলো হারের বেদনা সঙ্গী রয়েছে। সর্বশেষ ১২ টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একটি! একমাত্র জয়টা করোনার আগে ঘরের মাঠে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ এই টেস্ট জিতেছিল। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চারটি টেস্ট খেলে সবগুলোই হেরেছে মুমিনুলের দল। চার ম্যাচ পর আবার প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। এবার বাংলদেশের সামনে সুযোগ হারের বৃত্ত ভাঙার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে মুমিনুলের জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো ব্যাপারই আছে। অধিনায়ক হওয়ার পর অভিজ্ঞ চার ক্রিকেটারকে কখনোই একসঙ্গে পাননি। এবার যেমন তামিম ইকবালকে মিস করতে পারেন। ইনজুরিতে একমাত্র টেস্টে এই ওপেনারের মাঠে নামা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তামিমের জন্য অপেক্ষা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। বামহাতি এই ওপেনার দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ মুমিনুলের কথাতেই স্পষ্ট, ‘আপনাদের জন্য তামিম ভাই কেমন গুরুত্বপূর্ণ তা জানি না, তবে আমার ও বাংলাদেশ দলের জন্য তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাকে পেতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।’ এদিকে তামিমকে মিস করলেও সাকিবকে ফিরে পাচ্ছেন মুমিনুল। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে নিশ্চিতভাবেই বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে তিন উইকেট ও ৭৪ রানের ইনিংস খেলে সেই বার্তাও দিয়ে রেখেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
যদিও সাকিবের পক্ষে একা কিছু করা সম্ভব নয়। জিততে হলে পুরো দলকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পারফর্ম করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে না, যে কোনও দলের সঙ্গেই যখন অ্যাওয়েতে খেলবো, তখন ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন দিকেই ভালো করতে হয়, ফোকাস রাখতে হয়। সেই সঙ্গে দলের ঐক্যটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিকটায় ভালো করলে আশা করি টেস্ট ম্যাচটা জিততে পারবো।’
দলে সাকিব ফেরায় টিম কম্বিনেশনে কিছুটা পরিবর্তন আসছে নিশ্চিত ভাবেই। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সবশেষ টেস্টে ৬ ব্যাটসম্যান ও ৫ বোলার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। এবার ৭ ব্যাটসম্যান, ৪ বোলার নিয়ে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। শেষ পর্যন্ত তামিম না খেলতে পারলেও ব্যাটিং অর্ডার আরেকটু লম্বা হবে। ১৬ মাস পর টেস্ট স্কোয়াডে ফেরা মাহমুদউল্লাহরও একাদশে ফেরা অনেকটাই নিশ্চিত। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন জয় করতে সম্ভাব্য সেরা একাদশটাই নামানোর চেষ্টায় আছে।
এদিকে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে বরাবরই ভালো খেলা জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে বড় এক দুঃসংবাদ পেয়েছে। করোনা আক্রান্ত স্বজনকে দেখতে যাওয়ার কারণে আইসোলেশনে বন্দি হয়েছেন অধিনায়ক শন উইলিয়ামস ও অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন। উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দিবেন ব্রেন্ডন টেলর।
তার পরেও দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশকে পেরে পুরনো হিসেব চুকাতে চায় জিম্বাবুয়ে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন এমনই, ‘গত কয়েক বছর তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন সময় পার করেছি, এবার ঘরের মাঠে খেলছি, অবশ্যই দারুণ ব্যাপার। এখানে আমরা আমাদের শক্তি দিয়ে খেলার চেষ্টা করবো। তারাও এই মুহূর্তে পূর্ণ শক্তির দল। আমরাও কঠিন চ্যালেঞ্জ প্রত্যাশা করছি। কিন্তু আমরা লড়াইয়ের জন্য উন্মুখ।’
সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ে সহজ প্রতিপক্ষ হলেও বিদেশের মাটিতে বলেই এতো সেটি নিয়ে সংশয় আছে! কেননা জিম্বাবুয়ের ডেরাতে বাংলাদেশের সাফল্য বলতে ২০১৩ সালে একটি টেস্ট জয়। সবমিলিয়ে ৭ টেস্টে একটি করে জয় ও ড্র। বাকি পাঁচটিতেই বাংলাদেশের হার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কখনও টেস্ট সিরিজের ট্রফি আনতে না পারা বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার সে দিকেই। একমাত্র টেস্ট জিততে পারলেই ট্রফি নিশ্চিত। এখন কেবল ব্যাটে-বলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পালা।









