দুই ওপেনার বিদায় নিলে চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশের ওপর। তবে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের চেপে ধরার সুযোগ দেননি সাকিব আল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান। তাদের ব্যাটে ভর করে লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে আবারও ধাক্কা খেলো স্বাগতিকরা সাকিবের বিদায়ে।
অ্যাশটন অ্যাগারের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন সাকিবকে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে আঘাত করেনি। সেবার রক্ষা পেলেও ইনিংস বেশিদূর নিতে পারেননি সাকিব। ২৬ রান করে অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তিনি।
টাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরে বল খানিকটা ভেতরে ঢুকে যায়, সাকিব ব্যাট চালিয়েছিলেন। তবে বলে কানেক্ট করতে পারেননি। ফল, বল স্টাম্পে আঘাত করলে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। ১৭ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে।
তার বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় তৃতীয় উইকেট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৮ রান।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন সৌম্য সরকার। সঙ্গীকে হারিয়ে নাঈম শেখও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
২১ রান তুলতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। হ্যাজেলউডের নিচু হয়ে আসা বলটি ঠিক বুঝতে পারেননি নাঈম। যে লেন্থে আসার কথা ছিল বলটি, সেভাবে ব্যাটে আসেনি। ফল, ব্যাট মিস করে বল সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। দেখেশুনে শুরু করেও তাই নাঈম ১৩ বলে ৯ রানে করে আউট হয়ে গেছেন।
‘ডাক’ মারলেন সৌম্য
প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে আউট হয়েছেন। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে পুষিয়ে দেওয়া সুযোগ ছিল সৌম্য সরকারের। কিন্তু আজ (বুধবার) আরও হতাশ করলেন বাঁহাতি ওপেনার। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেছেন তিনি।
বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১২১ রান করা অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ে দারুণ শুরুর প্রয়োজন ছিল। যেটি এনে দিলেন মিচেল মার্শ। বাঁহাতি পেসারের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন সৌম্য। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই সাজঘরের পথ ধরেছেন এই ওপেনার।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ১২২
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বোলাররা চমৎকার বোলিং করলেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নিজেদের আওতার মধ্যেই রেখেছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমান-সাকিব আল হাসানদের বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করেছে ১২১ রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ করেছিল ১৩১ রান। সেই দিক থেকে চিন্তা করলে ১২২ রানের লক্ষ্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। বলা যায়, ব্যাটসম্যানদের জন্য সাধ্যের মধ্যেই লক্ষ্য রেখেছেন বোলাররা। যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তাফিজ। মিরপুরের উইকেট স্পিন বান্ধব বলা হলেও এই পেসার আলো ছড়িয়েছেন। ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট।
আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। সাকিব ৪ ওভারে ২২ রানে ১ উইকেট পেলেও বেঁধে রেখেছিলেন সফরকারী ব্যাটসম্যানদের। মেহেদী হাসান ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। আর আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নাসুম আহমেদ কোনও উইকেট পাননি। ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়েছেন।
তাদের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন মিচেল মার্শ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান মোয়েসেস হেনরিকসের। এছাড়া শেষ দিকে মিচেল স্টার্ক অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে।









