সিলেট সানরাইজার্স, ফরচুন বরিশাল, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স—এই তিন দলের কাছে অনায়াসেই জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কেউ কুমিল্লাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। ঢাকায় দুই ম্যাচ জেতার পর চট্টগ্রামেও সেই ছন্দ ধরে রেখেছিল স্বাগতিক দল। কিন্তু মঙ্গলবার চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে এসে হোঁচট খেয়েছে কুমিল্লা। মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮১ রান করেছে ঢাকা। জবাবে ১৫ বল আগে ১৩১ রানে গুটিয়ে গেছে কুমিল্লা। তাতে ৫০ রানের বড় জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে গেছে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন ঢাকা।
লক্ষ্যে খেলতে নেমে রুবেল হোসেনের প্রথম ওভারেই ফিরে যান কুমিল্লার ওপেনার লিটন দাস। রাউন্ড দ্য উইকেটে এলেও এই ব্যাটারের খেলার ধরন দেখে মনে হয়েছে উদ্দেশ্যহীন! কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে ফেরেন ফাফ দু প্লেসিসও।
তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয় ও ইমরুল কায়েস ৭০ রানের জুটিতে শুরুর এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইমরুল ২৩ বলে ২৮ রান করে বিদায় নিতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে কুমিল্লা। ১৭.৩ ওভারে ১৩১ রান তুলতেই অলআউট হয় তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান আসে মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে। ৩০ বলে ৮ চারে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন এই তরুণ।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে আন্দ্রে রাসেল সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া এবাদত হোসেন এবং কায়েস আহমেদ নিয়েছেন দুটি উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না ঢাকার। প্রথমেই মোস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন মোহাম্মদ শাহজাদ। তারপর ইমরান উজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে হাল ধরে খেলেছেন তামিম। দুজনে মিলে যোগ করেন ৪৮ রান। ইমরানের (১৫) রান আউটের পর মাহমুদউল্লহকে সঙ্গে নিয়েও জুটি গড়েন তামিম। তবে বেশি দূর যেতে পারেনি তারা। ৩০ রানের এই জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ওপেনার এদিন ৪৬ রান করতে পেরেছেন। ৩৫ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান তামিম।
শুরুর দিকের জুটি বড় না হলেও পরে কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে থেকেছেন মাহমুদউল্লাহ। অষ্টম ওভারে ক্রিজে আসা এই ব্যাটার শুরুতে একটু সময় নিলেও পরে কুমিল্লার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন। চতুর্দশ ওভারে তো পেসার শহিদুল ইসলামকে ছক্কা মেরে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পাঁচ হাজার রান স্পর্শ করেছেন। তার ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করেই ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করেছে ঢাকা। মাহমুদউল্লাহ ৪১ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে তানভীর ইসলাম ৩৬ রানে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া মোস্তাফিজ, শহীদুল, করিম জানাত নিয়েছেন একটি করে উইকেট।









