ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা। ব্যাটিং দুশ্চিন্তা কিছুতেই কাটছিল না ফরচুন বরিশালের। এই সময়ে দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি সাকিব আল হাসানরা। অবশেষে সিলেটে এসে রানের দেখা পেয়েছে বরিশাল। আজ (মঙ্গলবার) সিলেট সানরাইজার্সের ওপর চড়াও হয়ে ১৯৯ রান জমা করে স্কোরবোর্ডে। অনেক চেষ্টা করেও রানের পাহাড় টপকাতে পারেনি সিলেট। ঘরের মাঠে ১২ রানের হারে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বরিশাল ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। কঠিন এই লক্ষ্যে সিলেট দারুণ শুরু পেয়েছিল। একপ্রান্ত আগলে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে গেছেন ওপেনার হয়ে নামা কলিন ইনগ্রাম। তার ঝড়ো ৯০ রানের ইনিংসের পরও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে করতে পারে সিলেট। তাতে প্লে অফ খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে রবি বোপারাদের।
এনামুল হক ৭ রানে আউট হওয়ার পর দারুণ কিছু করার ইঙ্গিত দেওয়া মোহাম্মদ মিঠুনও (১৯) ফিরে যান দ্রুত। তবে একাই লড়াই করে যাচ্ছিলেন ইনগ্রাম। কিন্তু হঠাৎই সাকিব বোলিংয়ে আনেন অনিয়মিত অফস্পিনার নাজমুল হোসেন শান্তকে। তিনি পরপর দুই বলে ইনগ্রাম ও মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু চেষ্টা করে কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন।
ইনগ্রাম ৪৯ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন। ১৬ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন এই ব্যাটার। ২১ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় মোসাদ্দেক শেষ ওভারে ৩৪ রানে ডোয়াইন ব্রাভোর শিকার হন। আলাউদ্দিন বাবু ১২ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।
শান্ত ১ ওভারে ২ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট। এছাড়া ব্রাভো ও সাকিব নেন দুটি করে উইকেট। সাকিব টানা চতুর্থ ম্যাচে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বরিশাল। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পছন্দের কম্বিনেশন খুঁজে পেয়েছে তারা! সিলেটে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠেছে সাকিবের দল। মঙ্গলবার তো বিপিএলে নিজেদের সেরা ব্যাটিংটাই করে ফেললো বরিশাল। ওপেনিংয়ে মুনিম শাহরিয়ার ও ক্রিস গেইল মিলে ৭০ রানের জুটি গড়েন। মুনিম যখন হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছান, ব্যাটিং দানব গেইলের রান তখন ১১ বলে ১৫! গেইলকে একপাশে রেখে সিলেট বোলারদের তুলোধুনো করেন বরিশালের এই ওপেনার। ২৮ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় মুনিম নিজের ৫১ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
মুনিমের আউটের পর ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া নুরুল হাসান সোহান ২ রানে আউট হন। এদিকে আলাউদ্দিন বাবুর বলে আগ্রাসী ব্যাটিং করা সাকিব বদলি ফিল্ডার সানজামুল ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন। ১৯ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় সাকিব তোলেন ৩৮ রান। এরপর তৌহিদ হৃদয় ১১ বলে ১০ রান করে আউট হন।
এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও গেইল দেখেশুনে খেলতে থাকেন। পঞ্চম উইকেটে স্বদেশি ব্রাভোর সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটিতে বরিশাল ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান করে। গেইল পুরো ইনিংস ক্রিজে থেকে ৪৫ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ব্রাভো ১৩ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৪ রানের টর্নেডো ইনিংসে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বাদ দেন।
সিলেটের সোহাগ গাজী, স্বাধীন, আলাউদ্দিন বাবু ও নাজমুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।









