ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে বৈতরণী পার হতে হবে বাংলাদেশকে। সুপার লিগ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ আটে থাকতে হবে। সে কারণেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ তামিম ইকবালদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবি একবার ভেবেছিল, ওয়ানডে মিরপুরে আয়োজনের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটি চট্টগ্রামে করতে। কিন্তু অধিনায়ক তামিমের চাওয়াতেই ওয়ানডে সিরিজ গড়াচ্ছে চট্টগ্রামে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ব্যাটাররা মিরপুরের উইকেটের চেয়ে চট্টগ্রামের উইকেটে খেলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।
এমনিতে দেশের অন্যসব ভেন্যুর চেয়ে চট্টগ্রামের উইকেটও বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত। সাগরিকা স্টেডিয়ামে সাকিব-তামিমদের জয়ের পরিসংখ্যানও তাই বলে। মিরপুরের উইকেট অবশ্য ধীরগতির ও অসমান বাউন্সের হওয়ায় ভরসা পান না ব্যাটাররা। তবে এখানে ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই সামনে আনছেন গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম। সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসেছিলেন বিসিবির এই পরিচালক। এখানেই বলেছেন, মিরপুরে ব্যাটারদের রান করতে না পারাতে উইকেটের কোনও দোষ নেই, ‘রান হচ্ছে না সমস্যাটা ক্রিকেটাদেরই। যারা ভালো খেলে, তারা সব উইকেটেই ভালো খেলতে পারে। সুতরাং এটাকে অন্যভাবে দেখার কোনও সুযোগই নেই।’
উইকেটের রহস্যময় চরিত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিসিবর এই পরিচালক বলেছেন, ‘ক্রিকেট অনিশ্চিত খেলা এবং সবচেয়ে মজার সেই অনিশ্চয়তা ক্রিকেটের উইকেট থেকেই আসে। এটা না থাকলে হয়তো ক্রিকেটের এই আনন্দটাই থাকতো না। তাহলে স্পিনারও তৈরি হতো না, ফাস্ট বোলারও তৈরি হতো না।’
ঐতিহ্যগত ভাবে উপমহাদেশের দলগুলো স্পিন ভালো খেলে থাকে। কিন্তু এর বাইরের দেশগুলোকে সংগ্রাম করতে হয় স্পিনারদের সামনে। ফলে উপমহাদেশের দলগুলোকে ভিন্ন কন্ডিশন জয় করতে যেমন দক্ষতার উন্নতি করতে হবে, তেমনি বাইরের দলগুলোকেও উপমহাদেশে এলে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিবিবির এই পরিচালক মনে করেন, এটি করতে হয় উইকেটের বৈচিত্র্যের কারণেই, ‘যেখানে খেলা হচ্ছে সেই অনুযায়ী দক্ষতার উন্নতি করতে হবে, তাদেরকে প্রয়োগ করতে হবে। সেই প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা তাদের কৃতিত্ব বজায় রাখতে পারবে। শীত, গ্রীষ্মে আমাদের উইকেটের ব্যবহার বিভিন্ন থাকবেই। কারণ সেটা আবহাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত থাকে। সেই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে উইকেটের আচরণ। চট্টগ্রাম সব সময়ই আমাদের জন্য ভালো ভেন্যু। এখানে ফলও ভালো। কিন্তু জয় যেমন পেয়েছি, হেরেছিও। তবে এটা নির্ভর করবে এই ২২ গজের মধ্যে যারা ভালো খেলবে, তার ওপর।’
চট্টগ্রামে বরাবরই ব্যাটিং বান্ধব উইকেট হয়ে থাকে। তবে উইকেট পারফক্টে হতে হলে রোদ প্রয়োজন। চট্টগ্রামের আকাশে গত দুই দিন ধরেই অন্ধকার বিরাজ করছে। সবমিলিয়ে ভালো উইকেট কতটুকু বানানো যাবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘এটা তো বললাম ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। সূর্য ভালো থাকলে উইকেট ভালো থাকবে, সূর্য ভালো না থাকলে উইকেটও ভালো থাকে না। সেটা বলা কঠিন, তবে এটা ফেয়ার উইকেট। বল আর ব্যাটের প্রতিযোগিতা ভালো হবে, এটাই আমরা আশা করবো।’
মূলত ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কের অংশ হিসেবেই চট্টগ্রামে এসেছিলেন মাহবুব আনাম। সেই কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা এখানে কিছু ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক করছি। তার অংশ হিসেবেই আমরা দুটি নতুন উইকেট বানিয়েছি। কারণ এখানে ঘরোয়া ক্রিকেট যদি কিছু খেলা যায়, তাহলে আমাদের ক্রিকেটের-ই উন্নয়ন হবে।’









