এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর থেকেই টেস্ট তেমন খেলছেন না সাকিব আল হাসান। কখনও পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা। কখনও আবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা ইনজুরি সমস্যায় বাংলাদেশের সর্বশেষ খেলা ৯ টেস্টের ৬টি-ই খেলেননি তিনি! এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও টেস্ট খেলতে চাইছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ অবস্থায় সাকিবের কাছে আগামী এক বছরের পরিকল্পনা জানতে চাইবে বিসিবি।
আইপিএলে খেলবেন বলে বেশ কয়েক মাসে আগেই দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এখন দল না পাওয়ায় সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলবেন কিনা সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ২-১ দিনের মধ্যে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাকিবের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার শেষ হচ্ছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজ শেষে কাল-পরশুর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনায় বসবে বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘এখন যেহেতু সে আইপিএলে যাচ্ছে না, দৃশ্যপটও বদলেছে। সে বলেছে কালকে বা পরশু প্রেসিডেন্ট (নাজমুল হাসান পাপন) সাহেবের সঙ্গে বসবে, বসে সে তার পরিকল্পনা জানাবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ না খেলার বিষয়টি আইপিএলের আগেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু পরিস্থিতি বদলানোয় ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ‘আইপিএলের নিলামের আগে সাকিব ৬ মাস টেস্ট থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। এরপর আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছিল সে শ্রীলঙ্কা সিরিজে খেলবে, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে টেস্ট খেলার কথা ছিল না। এখন সে কত টেস্ট ম্যাচ খেলবে, প্ল্যানটা কী, সেটা আমরা জানতে চাচ্ছি। সেটা ক্লিয়ার করুক আমাদের কাছে, ওয়ানডে সিরিজের পর আমরা জানতে পারবো। আলোচনায় শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ না, সবকিছু আলোচনা হবে। বেসিক্যালি আমরা তার কাছে এক বছরের পরিকল্পনা জানতে চাইবো।’
সাধারণত অফিসের সিদ্ধান্ত মেনেই কর্মীদের কাজকর্ম করতে হয়। তবে ব্যতিক্রম কেবল সাকিব-বিসিবি। যদিও জালাল মনে করেন, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিসিবিকে মেলানো যাবে না, ‘এটা (বিসিবি) তো সেই ধরনের অর্গানাইজেশন না। দয়া করে তাদের আমাদের এমপ্লয়ি হিসেবে কনসিডার করবেন না। তারাও ক্রিকেটের একটা স্টেকহোল্ডার, হ্যাঁ চুক্তি অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকে, তবে সব যে হার্ড থাকে তা তো না। সমস্যা থাকলে বলতেই পারে। ডিসিশনটা হলো আমাদের যে আমরা কীভাবে নিবো। সে যদি চায় নির্দিষ্ট সময় টেস্ট খেলবে, সেই স্বাধীনতা কি তার নাই? বলতে পারে। লেট আস সি।’
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ দিয়ে সাকিবের প্রত্যাবর্তন ঘটে ক্রিকেটে। ওয়ানডে সিরিজ খেললেও ইনজুরির কারণে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট আর খেলতে পারেননি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে ২ টেস্ট খেলতে যাননি আইপিএল খেলার জন্য। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেললেও পাকিস্তানের বিপক্ষে নভেম্বরে প্রথম টেস্ট খেলেননি। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরে ২ টেস্টের সিরিজে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে যাননি। সব মিলিয়ে গত বছর থেকে বাংলাদেশ যে ৯ টেস্ট খেলেছে, তার মধ্যে মাত্র ৩টি খেলেছেন সাকিব। এবার যেতে চাইছেন না দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও।
টেস্টে এত অনিয়মিত থাকার কারণেই সাকিবকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় খুব। কারণ, গত বছর বিসিবি যে কেন্দ্রীয় চুক্তি করেছে, সেখানে অনেক আলোচনা-পর্যালোচনার পর ফরম্যাট অনুসারে আলাদা আলাদা চুক্তি প্রকাশ করে। সব ফরম্যাটেই চুক্তিভুক্ত মাত্র ৫ ক্রিকেটারের মধ্যে একজন সাকিব। এ কারণে এবার আরেকটি কেন্দ্রীয় চুক্তির সময় এসে গেলেও বিসিবি অনেক সতর্কতার সঙ্গে এবং অনেক সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ করেই সেটি প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে জালাল বলেছেন, ‘আমাদের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য ১৮-২০ জনের একটা তালিকা প্রস্তুত আছে। এখন বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা। কারা খেলবে না, কার ছুটি নিতে হবে; এসব বিবেচনায় চুক্তি করা হচ্ছে। ২-১ দিনের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’









