ভারতের ১২তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেললেন বিরাট কোহলি। এমন মাইলফলকের ম্যাচে ৪৫ রান করে আউট হয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। তবে নিজে ৪৫ রানে আউট হলেও লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫৭ রান তুলে শক্ত অবস্থানে আছে স্বাগতিকরা।
শুক্রবার মোহালিতে মাইলফলকের ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখতে তাকে বিশেষ ক্যাপ উপহার দেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়। এসময় সঙ্গে ছিলেন কোহলির স্ত্রী বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাও। এমন মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সাবেক অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত। এখানে আমার স্ত্রী আছে, আমার ভাইও। প্রত্যেকে খুব গর্বিত। এটা দলগত খেলা এবং আপনাদের ছাড়া সম্ভব হতো না। বিসিসিআইকেও ধন্যবাদ। আমার কাছ থেকে পরের প্রজন্ম যেটা নিতে পারে, তা হলো আমি ক্রিকেটের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ফরম্যাটে ১০০টি ম্যাচ খেলেছি।’
কোহলির টেস্ট অভিষেক হয় ২০১১ সালে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে। দীর্ঘ ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ৮ হাজার রান থেকে ৩৮ রান দূরে থেকেই এদিন মাঠে নেমেছিলেন। তার পর ৪৫ রানের ইনিংস খেলে ছুঁয়ে ফেলেন সেই মাইলফলক।
টেস্টে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান শচীন টেন্ডুলকারের। ২০০ টেস্ট খেলে লিটল মাস্টারের রান ছিল ১৬ হাজার ৯২১। শচীনের পর ৮ হাজারের বেশি রান করা ক্রিকেটার হচ্ছেন- রাহুল দ্রাবিড়, সুনীল গাভাস্কার, ভিভিএস লক্ষ্ণণ, বীরেন্দর শেবাগ। বিরাট কোহলি ৮ হাজার ৭ রান করে তালিকার ৬ নম্বরে আছেন।
এর আগে শুক্রবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও রোহিত শর্মা মিলে ৫২ রানের জুটি গড়েন। কিছুদিন আগে টেস্টের নতুন নেতৃত্ব পাওয়া রোহিত ২৯ রানের বেশি করতে পারেননি। অধিনায়কের বিদায়ের পর তিন নম্বরে নামা হনুমা বিহারির সঙ্গে জুটি বাঁধেন আগারওয়াল। কিন্তু ৩৩ রানে লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার বলেই আগারওয়ালকে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে। এরপর শততম ম্যাচে ব্যাট করতে নামেন বিরাট কোহলি। তৃতীয় উইকেটে হনুমা বিহারিকে নিয়ে ৯০ রানের জুটিও গড়েন তারা। কিন্তু শততম টেস্টে কোহলি হাফসেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতেই আউট হয়েছেন।
শুধু কোহলি একাই নন, হতাশ করার মতো ঘটনা ঘটেছে ঋষভ পান্তের বেলাতেও। দারুণ খেলতে থাকা এই ব্যাটার ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন।
তবু বড় দুটি আক্ষেপের দিনে ভারত প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে রয়েছে।৬ উইকেটে তাদের স্কোর ৩৫৭ রান। দলের হয়ে সেরা ইনিংস খেলেছেন পান্ত। ৯৭ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৬ রানে আউট হয়েছেন তিনি। এছাড়া হানুমা বিহারির ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রানের ইনিংস। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও কোহলির ৪৫ রানও কার্যকরী অবদান রাখে।
লঙ্কানদের বোলারদের মধ্যে লাসিথ এম্বুলদেনিয়া সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বফার্নান্ডো, লাহিরু কুমারা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা একটি করে উইকেট পেয়েছেন।









