আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এখনও খেলে যাচ্ছেন মোহাম্মদ হাফিজ। সেই পথচলারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। গায়ে জড়িয়েছেন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের জার্সি। যদিও মোহামেডান-যাত্রাটা সুখকর হয়নি পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের। বোলিংটা কোনোরকম হলেও ব্যাট হাসেনি তার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের হতাশা তার আরও বেড়েছে মোহামেডানের হারে।
সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন-মিরাজের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী-সৌম্য-রনি-শুভাগত-সালাউদ্দিন শাকিলদের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে মোহামেডান। কিন্তু তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই মাঠে নেমে শাইনপুকুরের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। আগে ব্যাট করে শাইনপুকুর ২৫০ রান সংগ্রহ করে। কিন্তু হাফিজ-সৌম্যদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২০৯ রানে অলআউট হয় মোহামেডান। ফলে ৪১ রানের বড় জয়ে লিগ শুরু করেছে শাইনপুকুর।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২৫১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মোহামেডান শুরুতেই ওপেনার রনি তালুকদারকে (৩) হারায়। এরপর ৭ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন। টিকতে পারেননি হাফিজও। আলাউদ্দিন বাবুর বলে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ‘প্রফেসর’ খ্যাত হাফিজ। প্রথম ম্যাচে ৪ বলে মাত্র ৪ রান করতে পারেন পাকিস্তানি ব্যাটার।
সৌম্যর মতো একই কায়দায় আউট হন যুব বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি করা আরিফুল ইসলাম (৯)। অধিনায়ক শুভাগত হোমও ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারানো মোহামেডান বড় ব্যবধানেই হারতে যাচ্ছিল।
কিন্তু সপ্তম উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভ ও পারভেজ হোসেন ইমনের ৩০ রানের জুটি এবং নবম উইকেটে শুভর সঙ্গে ইয়াসিন হাসান মিশুর ৪৯ রানের জুটিতে হারের ব্যবধান কমাতে পেরেছে মোহামেডান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন ইমন। ৮৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান আসে। ৫২ বলে ৫ চারে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন শুভ। মিশুর ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। সব মিলিয়ে ৪৮.৩ ওভারে ২০৯ রানে অলআউট ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
শাইনপুকুরের আনিসুল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু ও সিকান্দার রাজা ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া নাঈম হাসান ও তাসামুল হক নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শাইনপুকুরের ওপেনিং জুটিতে আসে ৩০ রান। আনিসুর ১৪ রানে আউট হলে ছন্দপতন ঘটে। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন সিকান্দার রাজা ও সাজ্জাদুল হক রিপন।
রাকিন আহমেদের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার ৪৪ রানের জুটি গড়েন। রাকিন ৭৪ বলে ৩৯ রান করে আউট হলে রিপনের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়ে আউট হন সিকান্দার। জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার ৭৪ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর রিপনের ৫৯ বলে ৭০ রানের ঝড়ো ইনিংস ও আলাউদ্দিন বাবুর ১৯ বলে ৪৬ রানের টর্নোডো ইনিংসে ভর করে শাইনপুকুর নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫০ রান সংগ্রহ করে।
ব্যাট হাতে ব্যর্থ সৌম্য বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। সালাউদ্দিন শাকিল নেন ২ উইকেট। আর হাফিজ ৩৩ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট।








