প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩১৫ রানের লক্ষ্যে জবাব দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লড়াইয়ের পথে বড় অবদান রাসি ভ্যান ডার ডুসেনেরই। মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই ব্যাটারকে অবশেষে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তাসকিন। ৩৯ ওভার শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৯৮ রান। ক্রিজে আছেন ডেভিড মিলার (৫১) ও আন্দিলে ফেলুকাও (০)।
অবশ্য প্রোটিয়া ব্যাটারকে আরও আগেই ফেরানো যেত। বাংলাদেশ তাকে রানআউট করলেও তিনি বেঁচে গেছেন টিভি আম্পায়ারের ভুলে! ৩৪.১ ওভারে রান আউট ছিলেন তিনি। কিন্তু টিভি আম্পায়ারের চোখে সেটা ধরা পড়েনি। পরে দেখা গেছে বোলিং প্রান্তে স্টাম্প ভাঙার সময় ডুসেন ব্যাট প্লেস করেননি! তখন বাতাসেই ছিল তার ব্যাট।
বড় লক্ষ্যে দুই ওপেনার জানেমান মালান ও কাইল ভেরিয়েনে সতর্ক থেকেই খেলছিলেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে শরিফুলের বলে শেষ রক্ষা হয়নি মালানের। ৪ রানে মুশফিককে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এই ক্যাচ নিয়ে রিভিউয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শুরুতে আম্পায়ার সফট সিগনালে নটআউট দিলেও রিভিউতে পাল্টায় অনফিল্ডার আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। একই ওভারে ভেরিয়েনের শট টপ এজ হয়ে বাতাসে উঠলেও সেটি ছক্কা হয়ে গেছে পরে।
নবম ওভারে প্রোটিয়াদের আরও বিপদে ফেলে দেন তাসকিন। তার দুর্দান্ত গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হন ওপেনার ভেরিয়েনে। এলবিডাব্লিউ হয়ে ২১ রানে ফিরেছেন। দুই বল পর তাসকিন তুলে নেন নতুন ব্যাটার এইডেন মারক্রামের (০) উইকেটটিও! পয়েন্টে মিরাজের কাছে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন এই ব্যাটার। তাতে বিশাল লক্ষ্যের বিপরীতে পাওয়ার প্লেতেই চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক দল। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংও প্রোটিয়াদের খোলসবন্দি রাখে অনেকক্ষণ। ধীরে ধীরে চাপে পড়ে যাওয়া পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও বাভুমা। ৮৫ রানের জুটিতে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান তারা। প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমাকে ফিরিয়ে স্বস্তি ফেরান পেসার শরিফুল। বাড়তি বাউন্সে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। সেই ফাঁদে পড়েই গ্লাভসবন্দি হন বাভুমা। তাতে ৩১ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
এর পরেও হাল ছেড়ে দেয়নি স্বাগতিক দল। ডেভিড মিলারকে সঙ্গে নিয়ে লড়াইটা চালিয়ে নিতে থাকেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। ১১তম হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন প্রোটিয়া ব্যাটার। পাশাপাশি বাড়তে থাকে রান রেটের চাপও। এই সময় মেরে খেলতে গিয়েই বাউন্ডারির কাছে ইয়াসির আলীর অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন ডুসেন। তাসকিনের বলে বিদায় নেওয়ার আগে ৯৮ বলে করেছেন ৮৬ রান। তাতে ছিল ৯টি চার ও এক ছয়। তার বিদায়ে ভাঙে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
সেঞ্চুরিয়নে শুরুতে টস হেরেই ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সতর্ক শুরুর পরও প্রোটিয়াদের ৩১৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেয় সফরকারী দল। ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ৩১৪ রান।
ঢিমেতেতালায় শুরুর পর ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন তামিম-লিটন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯৫ রানের রেকর্ড ওপেনিং জুটিও গড়েন তারা। পরে ছন্দপতন ঘটলেও ইনিংসটা ভালো জায়গায় পৌঁছাতে বড় অবদান সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলীর শত রান ছাড়ানো জুটির। ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটিও ছিল এটি। ১১৫ রানের এই জুটির পর মেহেদী মিরাজ-তাসকিন আহমেদের শেষের কার্যকারিতায় ইনিংসটা পেয়েছে অনতিক্রম্য একটা জায়গা। কারণ, সেঞ্চুরিয়নে ৩১৯ রান তাড়া করে জেতার নজির একটিই। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রান তাড়ায় জিতেছিল প্রোটিয়ারা। গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পথে সাকিব ৬৪ বলে খেলেছেন ৭৭ রানের ইনিংস। সঙ্গী ইয়াসিরও দেখা পেয়েছেন ফিফটির। অর্ধশত করেছেন ওপেনার লিটন দাসও।









