মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা পারেননি। ২০০৬ সালের ওই যুব বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের আশা।
তবে এবার আর সে ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ-জাকির হাসান- নাজমুল হােসেন শান্তরা। অধিনায়ক মিরাজের অপরাজিত ৫৫ (৬৫ বলে) ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকিরের অপরাজিত ৭৫ রানের (৭৭ বলে) ওপর ভর করে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালকে ছয় উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে উঠে গেছে জুনিয়র টাইগাররা।
এবারের আসরে চমক দেখানো নেপাল এদিন লড়ে গেছে সমানে-সমান। জুনিয়র টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাট হাতে ২১১ রান সংগ্রহ করে নেপালি যুবারা। নেপালের ইনিংসে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সদ্য বয়স বিতর্কে জড়ানো অধিনায়ক রাজু রিজাল। তার ৮০ বলে ৭২ রানের ইনিংসে ভর করেই ২১১ রান সংগ্রহ করে নেপাল।
বল হাতেও বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলেনি নেপালি যুবারা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৭.৪ ওভারে দলীয় ১১৪ রানে বিদায় নেন পিনাক ঘোষ, সাইফ হাসান, জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হােসান শান্ত। এ সময় বেশ চাপে পড়ে যায় জুনিয়র টাইগাররা। তবে সেখান থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। এই দুজনের ১১৭ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ছয় উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
এ জয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে যুব বিশ্বকাপে পূর্বসূরিদের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেলেন মিরাজরা ।
এদিন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে নেপাল। সতর্কভাবে শুরু করলেও ৫.২ ওভারে ওপেনার সুনারকে বোল্ড করেন পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। এরপরের ওভারেই ফিরে যান নতুন ব্যাটসম্যান কার্কি (১)। মেহেদী হাসান রানার বাউন্সার সামাল দিতে গিয়ে ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় স্লিপে থাকা জয়রাজ শেখের হাতে।
এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার সুনিল ধামালা (১৯) ও রাজু রিজাল (২১)। এই দু’জনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৪৪ রান। তবে দলীয় ৬৩ রানে ওপেনার ধামালাকে রান আউট করলে ভাঙে এই জুটি। ধামালা বিদায় নেন ২৫ রানে। এরপর আরিফ শেখ (২১) কিছুক্ষণ রানের যোগান দিলেও তাকে ফেরান পেসার সাইফ উদ্দীন।
দীর্ঘক্ষণের সঙ্গী না পেলেও নেপালকে এগিয়ে নিতে থাকেন অধিনায়ক রাজু রিজাল। নিজের ব্যাটিং কারিশমা দেখিয়ে তুলে নেন বিশ্বকাপে প্রথম হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭২ রানে আটকে যেতে হয় রাজুকে। দলীয় ১৪৬ রানে শান্তর থ্রোতে রান আউট হন নেপাল অধিনায়ক।
এরপর ব্যাটসম্যান রাজবির সিংকে (৯) এলবিডব্লু করে বিদায় দেন সালেহ আহমেদ শাওন। একে একে ফিরে যান কুশল ভুরতেল (১৪), দিপেন্দ্র সিং এইরি (২২) ও সুশিল কান্ডেল (২)। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করে নেপাল।
বাংলাদেশের পক্ষে দুটি উইকেট নেন সাইফ। একটি করে নেন মিরাজ, রানা ও শাওন। চারজন নেপালি ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার হয়েছে।
২১২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ১৭ রানে ধামালার বলে ফিরে যান ওপেনার সাঈফ হাসান (৫)। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন পিনাক ঘোষ ও জয়রাজ শেখ। কিন্তু দলীয় ৬৩ রানে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হতে হয় পিনাককে। প্রান্ত বদল করতে গিয়ে রান আউট হন পিনাক (৩২)। একটু পরেই বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত (৮)। লামিচানের বলে তার হাতেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ২৮.১ ওভারে দলীয় ৯৮ রানে ধামালার বলে আউট হন জয়রাজ শেখ (৩৮)।
৯৮ রানে চারটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে জুনিয়র টাইগাররা। তবে তারপরের গল্পটুকু শুধু অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের। পঞ্চম উইকেটে এ দুজন ১১৭ রানের জুটি গড়ে তুলেন। ৭৭ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করেন জাকির হাসান। মিরাজ খেলেছেন ৬৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংস। এই দুজনের দৃঢ়তায় ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসেবে সেমিতে পা রাখে জুনিয়র টাইগাররা।
/এমআর/








